দক্ষিণ পূর্ব

তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে চট্টগ্রামজুড়ে সাজসাজ রব, প্রস্তুত পলোগ্রাউন্ডের মঞ্চ

RAFIQ HYDER
RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
পঠিত :
তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে চট্টগ্রামজুড়ে সাজসাজ রব, প্রস্তুত পলোগ্রাউন্ডের মঞ্চ
নিজস্ব প্রতিবেদক;
প্রায় ২১ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে সাজসাজ রব। আগামীকাল রোববার তিনি নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এ উপলক্ষে নগরীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ জেলা ও মহানগরের ৪১টি ওয়ার্ডের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে বরণ করে নিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা তৃণমূল নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। অপরদিকে পলোগ্রাউন্ড মাঠে অন্তত আড়াইশ শ্রমিক দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

ইতোমধ্যে সমাবেশের মঞ্চ নির্মাণ, মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশের জন্য ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। মঞ্চের উচ্চতা ৭ ফুট। যেখানে অন্তত ৩০০ লোক বসতে পারবে। পলোগ্রাউন্ড থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস পর্যন্ত ২০০টি মাইক ও ১০টি সাউন্ডবক্স স্থাপন করা হবে।

 তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে নগরীর প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও অলিগলির মুখগুলো। সমাবেশস্থলের প্রস্তুতি দেখতে প্রতিদিনই পলোগ্রাউন্ডে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা ও নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির নেতৃত্বের কাছে এই সফর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর দলকে আবার মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ও দৃশ্যমান করার প্রয়াস হিসেবেই চট্টগ্রাম সফরকে দেখা হচ্ছে। দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এটি প্রথম বড় মাঠের কর্মসূচি হওয়ায়, তার বক্তব্যকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

মাঠের প্রস্তুতির দিক থেকেও সমাবেশটি বড় পরিসরের। নিরাপত্তা বিবেচনায় মঞ্চের সামনে ও আশপাশে একাধিক স্তরের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, মাঠের পুরো ব্যবস্থাপনাই জনসমাগমের চাপ সামাল দেওয়ার মতো করে সাজানো হচ্ছে।

নিরাপত্তা ইস্যুটিও সমাবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ চট্টগ্রামে মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি জনসভার প্রস্তুতি দেখতে গিয়ে এ কথা বলেন চট্টগ্রামের সিটি মেয়র বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন। এদিনই রাতে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।মেয়র শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ এ তিনি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। ওখান থেকে সরাসরি উনার যেখানে থাকার ব্যবস্থা, রেডিসন ব্লুতে সেখানে আসবেন। উনার বহর সম্ভবত অত বেশি থাকবে না, ৮-১০ জন নিয়ে উনি আসবেন।

“ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান সিকিউরিটি ফোর্সের লোকজন এখানে চলে এসেছে। সকাল ৭টায় তারা পৌঁছেছে। একটু পরে তারা এখানে আসবেন। পুরো স্থান রেকি করবেন। তারপর উনারা এয়ারপোর্ট যাবেন।”

রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের সাথে একটি অনুষ্ঠান করবেন জানিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের সাথে মত বিনিময়ের পরে উনি এই সমাবেশে যোগ দেবেন। এই সমাবেশের পর ঢাকার পথে আরো পাঁচটি সমাবেশ উনার আছে। একটি ফেনীতে, কুমিল্লাতে তিনটি আর নারায়ণগঞ্জে একটি।

“এই ৫টি সমাবেশ শেষ করে উনি ঢাকায় পৌঁছাবেন। অতীতে আমাদের এই সমাবেশগুলো মহাসমু্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। আগামীকাল এই সমাবেশটি হবে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের একটি সমাবেশ।”

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজার থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সমাবেশে যোগ দেবেন। গণমানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। সিলেট–হবিগঞ্জের মতো এখানেও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে। অতীতের সব জনসমাগমের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।

এদিকে তারেক রহমানের দীর্ঘ ২১ বছর পর চট্টগ্রাম আগমন উপলক্ষে পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি আমেজ বিরাজ করছে। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে পলোগ্রাউন্ডে আসছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রস্তুতির কর্মযজ্ঞ দেখতে মাঠে ভিড় করছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে একটি প্রস্তুতি কমিটিসহ তিনটি উপ-কমিটি কাজ করছে।নিরাপত্তার স্বার্থে সমাবেশস্থলকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের প্রার্থীরা অবস্থান করবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারিত, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য পৃথক ব্লক থাকবে। পুরো মাঠ গ্রিন জোন হিসেবে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।এই সমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, অতীতের যেকোনো সমাবেশের তুলনায় এবার মানুষের অংশগ্রহণ বেশি হবে। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সব থানার ওসিদের সঙ্গে ব্রিফিং সম্পন্ন হয়েছে এবং সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আলাদা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১২ সালে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়া পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশ করেছিলেন। সে সময় প্রায় ১৬ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল বলে দাবি করেন দলীয় নেতারা।
আর এইচ/

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।