দক্ষিণ পূর্ব

তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে মধ্যরাতেও উত্তাল শাহবাগ

মনির ফয়সাল
মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
পঠিত :
তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে মধ্যরাতেও উত্তাল শাহবাগ
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক

হাড়কাঁপানো কনকনে শীত। চারদিকে যখন কুয়াশার চাদর আর নিস্তব্ধতা, তখন শাহবাগ মোড় যেন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে গভীর রাতেও থমথমে শাহবাগ। রাত বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে মানুষও। আন্দোলনে যোগ দিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন ছাত্র-জনতা।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মধ্যরাতের হিমেল হাওয়ায় শরীর গরম রাখতে কেউ কম্বল গায়ে জড়িয়েছেন, কেউ বা একে অপরের কাঁধে হাত রেখে গোল হয়ে বসে আছেন। তবে চোখেমুখে ক্লান্তি নেই, আছে দ্রোহ। জশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন আম্মার এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের স্লোগানে কেঁপে উঠছে রাজপথ।

স্লোগান দিচ্ছেন- ‌‘হাদি মানে আজাদি, হাদি মানে ইনসাফ’ ‘এক হাদির রক্ত থেকে, লক্ষ হাদি জন্ম নেবে’ ‘তুমি কে আমি কে হাদি হাদি’ ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ ‘আপস না হাদি, হাদি’ ‘আওয়ামী লীগের চামড়া, তুলে নেব আমরা’ ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’।
 
রাত ৩টার দিকে আন্দোলনে এসে যোগ দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ। তারা এসে ছাত্র-জনতার সঙ্গে রাস্তায় বসে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, 'যতক্ষণ পর্যন্ত আমার সহযোদ্ধা ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হবে ততক্ষণ আমরা এই রাজপথ ছাড়ব না। উপদেষ্টারা এখানে এসে আমাদের জানাতে হবে তারা এ পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমরা এখন পর্যন্ত বিচারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখিনি।'

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, 'হাদি ভাই, আমরা বিচার নিশ্চিত না করে যাব না। আমরা আমাদের অবস্থান জারি রাখব। আমরা খুনিদের বিচার চাই। এর বাইরে আমাদের কোনো চাওয়া নাই। বিচার কার্যক্রম শুরু হলে আমাদের কার্যক্রম আমরা তুলে নেব। তার আগে কোনো আশ্বাসে আমরা কর্মসূচি শেষ করব না।'


শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে দুপুর ২টা থেকে শুরু হয় আন্দোলন। রাতভর শাহবাগে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। এরপর প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এমএইচএফ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।