ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ অবসানে ইরান যে ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তা তিনি পর্যালোচনা করছেন। তবে তেহরান ‘খারাপ আচরণ’ করলে আবারও বিমান হামলা শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
শনিবার ফ্লোরিডায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তাকে সম্ভাব্য চুক্তির ধারণা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি তিনি। গত ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।
হামলা আবার শুরু হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “তারা যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে সেই সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি দাবি করেন, কয়েক মাসের যুদ্ধ ও নৌ অবরোধে ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সমঝোতার জন্য চাপের মধ্যে আছে।
পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “গত ৪৭ বছরে ইরান বিশ্ব ও মানবতার বিরুদ্ধে যা করেছে, তার জন্য এখনো বড় কোনো মূল্য দেয়নি। তাই তাদের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।”
ইরানের প্রস্তাবে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শান্তিচুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করতে ৩০ দিনের সময় চেয়েছে তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার পর পশ্চিম এশিয়াজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করে। তিন সপ্তাহের নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিতে সরাসরি হামলা বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকা এবং ইরানি বন্দর ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে উত্তেজনা এখনও বজায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিকভাবে সংঘাত নিরসনের চেষ্টা জোরদার হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা