দক্ষিণ পূর্ব

দুই 'প্রপাগাণ্ডা' নিয়ে শিবির সভাপতি আলীর কড়া জবাব ফেসবুকে

RAFIQ HYDER
RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ২ আগস্ট ২০২৫
পঠিত :
দুই 'প্রপাগাণ্ডা' নিয়ে শিবির সভাপতি আলীর কড়া জবাব ফেসবুকে
নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সংশোধিত গঠনতন্ত্রে এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে সুযোগ রাখা হয়েছে। আবার রাত ১০টার মধ্যে ছাত্রীদের আবাসিক হলে অবস্থান নিশ্চিত করতে মাইকিং করেছেন প্রক্টরিয়াল বডির এক সদস্য। এ দুই বিষয় নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দিকে 'ঢিল' ছুড়ছে কিছু কিছু ছাত্রসংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা।

আর এ বিষয়টি নিয়ে 'চাপ অনুভব' করেছে ক্যাম্পাসের প্রভাবশালী এই ছাত্রসংগঠনটি। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রচারণাকে গুরুত্ব দিয়েই মোকাবিলা করতে হচ্ছে শিবিরকে। 

শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মোহাম্মদ আলী তাই এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন ফেসবুকে। 

নিজের ফেসবুক আইডি থেকে 'চবি প্রশাসনের বিতর্কিত কর্মকান্ডে ছাত্রশিবিরের অবস্থান' শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি এতে উল্লেখ করেন, 'চবিতে সান্ধ্য আইন: সান্ধ্য আইন চালু করা নিয়ে গতকাল (১ আগস্ট) থেকে চবি'র একটা অংশ সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সমকালে 'চবির ছাত্রী হলে সান্ধ্য আইন জারি' শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর থেকে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। পক্ষে বিপক্ষে বিতর্কের একটা পর্যায়ে জানা যায় এমন কোনো আইন অফিসিয়ালি চালু হয়নি। সমকালের নিউজটা মে মাসে বিজয়-২৪ হলে দেয়া একটা নোটিশের ভিত্তিতে করা। ছাত্রশিবির এ বিষয়ে ক্লিয়ার হওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করেনি। আর চিরাচরিতভাবে ছাত্রশিবির কারও উপর জোরপূর্বক কোনোকিছু চাপিয়ে দেয়াকে সমর্থন করে না। কিন্তু একটা অংশ পরিকল্পিতভাবে এই ইস্যুর সাথে ছাত্রশিবিরের নাম জড়িয়ে গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। সান্ধ্য আইনের বিরোধিতা করা নয় বরং ছাত্রশিবিরের গ্রহণযোগ্যতা কমানোই তাদের মূল এজেন্ডা। আমরা এমন ঘৃণ্য অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, চাকসু নীতিমালা: শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং দাবির প্রেক্ষিতে গতকাল সিন্ডিকেট মিটিংয়ে চাকসু নীতিমালা অনুমোদন সম্পন্ন হয়। যার প্রেক্ষিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পথ সুগম হয়েছে। কিন্তু নীতিমালার একটি পয়েন্ট নিয়ে গতকাল থেকে একটা গ্রুপকে সমালোচনা করতে দেখা যাচ্ছে। সেটা হলো 'নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে এম ফিল এবং পিএইচডিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদেরকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং ভোট প্রদানের সুযোগ করে দেয়া'। 

কিছুদিন পূর্বে চাকসু নীতিমালা সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশাসনের একটা উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে অধিকাংশ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে শুরু করে চাকসু নিয়ে সচেতন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল। আমরাও গিয়েছিলাম তবে আমাদের শুধুমাত্র দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন চাকসুর সদস্যপদের আলোচনায় এমফিল, পিএইচডির কথা উল্লেখ করলে অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানায়। আমরাও জানতে চেয়েছি কোন যুক্তিতে ওনাদেরকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। চাকসু নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য আমির নসরুল্লাহ স্যার জোর দিয়েই বললেন '৭৩ এক্ট অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থী বলতে অনার্স, মাস্টার্স, এমফিল এবং পিএইচডিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদেরকে বুঝায়, এবং আমরা কোনোভাবেই এর বাইরে যেতে পারবো না'। এই বক্তব্যের পর আমরা এই বিষয়ে নীরব ছিলাম। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স ভঙ্গ করে নীতিমালা প্রণয়নের অধিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। কিন্তু সভাস্থানে উপস্থিত অন্যান্য সংগঠনগুলো দাবি করেছে শুধুমাত্র অনার্স মাস্টার্সে অধ্যয়নরতদের সুযোগ দেয়ার জন্য। তাদের যুক্তি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরাও পিএইচডি তে অধ্যয়নরত আছেন। তবে কি তারাও চাকসু করবেন! এক পর্যায়ে প্রশাসন প্রাথমিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। 

কিন্তু গতকাল নীতিমালা প্রকাশের পর দেখা যায় এমফিল এবং পিএইচডিতে অধ্যয়নরতদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে তবে বয়সসীমা ৩০ বছর। এই সিদ্ধান্তে আমরা প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাই। কারণ এর মধ্য দিয়ে অর্ডিন্যান্সও ভঙ্গ করা হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়টিও আর থাকছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী একমত হলেও একজন এমফিলের শিক্ষার্থী যদি অপোজ করে চাকসু করার অধিকার চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সুযোগ দিতে বাধ্য।

কিন্তু খুবই দুখঃজনকভাবে গতকাল থেকেই একটা অংশ পরিকল্পিতভাবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রশাসনের সাথে ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে ঘৃণ্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। চাকসু নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্য, সম্মানিত শিক্ষকদের মতাদর্শ দেখলেই বুঝবেন কাদের মতের উপর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা গত ১৯ এপ্রিল চাকসু গঠনতন্ত্র সংস্কার প্রস্তাবনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং আমাদের প্রস্তাবনাগুলো প্রশাসনের নিকট জমা দিয়েছি। সেখানে নিয়মিত শিক্ষার্থীদেরই সদস্যপদ দেয়ার বিষয়ে মতামত ছিল। এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আপনার পছন্দ না হতে পারে তাই বলে ছাত্রশিবির করিয়েছে এমন অপপ্রচার যদি আপনার রাজনীতি হয় তবে সেটা ষড়যন্ত্রমূলক।

এ বিষয়ে চবি শিবির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, 'চাকসু নীতিমালা করেছে প্রশাসন। রাত ১০টার মধ্যে ছাত্রীদের হলে ফিরে যেতে বলেছে প্রশাসন। যদিও সেটি কোনো প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নয়। এসব বিষয়ে দায় শিবিরের উপর চাপানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিবিরকে নিয়ে যতোই প্রপাগাণ্ডা তারা চালাক না কেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য শিবির নিবেদিত থাকবে। মিথ্যাচার করে সে কোনো আদর্শ সংগঠনকে থামিয়ে দেওয়া যায় না, তা যুগে যুগে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। 

ফরহান অভি/হায়দার 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।