দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
দীর্ঘদিন পর দেশে করোনাভাইরাসে একদিনে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ এবং একজন নারী। বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চারজনেরই বয়স ৪০ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মাসের ৫ জুন দেশে করোনায় প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে ২২ জুন পর্যন্ত এ রোগে মারা গেছেন ১৬ জন, অর্থাৎ সব মৃত্যুই ঘটেছে চলতি মাসে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২১টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময় শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।
দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় এবং ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু ঘটে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৫১৫ জনের। মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৫১ হাজার ৯৭৮ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “একদিনে পাঁচজনের মৃত্যু দীর্ঘদিন পর দেখা গেল। সম্ভবত তাদের বেশির ভাগেরই কোমর্বিডিটি বা অন্য অসুখ ছিল। এই পরিস্থিতি টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক হালিমুর রশীদ বলেন, “বেশ কয়েক বছর পর একদিনে পাঁচজনের মৃত্যু হলো। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি।”
জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে একজন ছিলেন ঢাকায়, তিনজন চট্টগ্রামে এবং একজন রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন। কারও হার্ট অ্যাটাক, কারও কিডনি সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে সবার শরীরেই করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানা, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এসএস