দক্ষিণ পূর্ব

নাগরিক সচেতনতাই পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ার মূল শক্তি: মেয়র শাহাদাত

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
নাগরিক সচেতনতাই পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ার মূল শক্তি: মেয়র শাহাদাত

ছবি : সংগৃহীত

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণই পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত, সবুজ ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার মূল শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে "পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম" প্রতিপাদ্যে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতামূলক বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জীবনাচরণ। তাই প্রতি শনিবার নিজ নিজ বাসা, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিচ্ছন্নতার চর্চা পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হওয়া উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয় ব্যক্তি ও পরিবার থেকে। সপ্তাহে অন্তত একদিন সবাই যদি নিজ নিজ পরিবেশ পরিষ্কার রাখেন, তাহলে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে। সরকারি সংস্থার একার পক্ষে নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ।

 

ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, শিশুদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে চসিক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে 'স্কুল হেলথ স্কিম' চালু করা হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস তৈরি এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও সংগ্রহ করা সম্ভব হয় প্রায় ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। অবশিষ্ট প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য খাল, নালা ও উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হচ্ছে, যা জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং কর্ণফুলী ও হালদা নদীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান।

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনি বলেন, এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে মাত্র ২ থেকে ৩ মিলিলিটার স্বচ্ছ পানিই যথেষ্ট। তাই ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা যেকোনো স্থানে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে উপজেলাগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

মেয়র আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটি’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১১টির কাজ শেষ হয়েছে। নাগরিক সেবা সহজ করতে একটি আধুনিক ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাপনাও চালু করা হয়েছে।

 

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে কোরিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ ও গ্রিন ডিজেল উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানান মেয়র। পাশাপাশি হালিশহর ও আরেফিন নগরের ল্যান্ডফিল আধুনিকায়নে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে নগরের ২০টি ওয়ার্ডে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

 

আরএইচ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।