চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের একটি কৃষক পরিবারে জন্ম মোবারক হোসেন ইমনের। বাবা মো. মুসা ছিলেন কৃষক। স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোটবেলায় ক্রিকেটই ছিল তাঁর নেশা। বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ বোলার হিসেবে একসময় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। পরবর্তী সময়ে মোবারক হোসেন ইমন, যিনি ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচিত, একাধিক ফৌজদারি মামলার আসামি হিসেবে আলোচনায় আসেন।
ইমনের স্বজনদের ভাষ্য, তাঁর নানাবাড়ি ফটিকছড়ি পৌরসভার উত্তর ধুরুং এলাকায়। স্থানীয় আবু হানিফা মাদ্রাসার মাঠে নিয়মিত ক্রিকেট অনুশীলন করতেন তিনি। সে সময় এলাকার মানুষের কাছে তিনি শান্ত স্বভাবের ও ক্রিকেটপাগল তরুণ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
ইমনের এক মামা বলেন, ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। পরিবারও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁকে চট্টগ্রাম শহরে পাঠিয়েছিল। পরে তাঁর চলাফেরায় পরিবর্তন আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে ওমানে পাঠানো হয়েছিল এবং একটি চাকরির ব্যবস্থাও করা হয়। তবে তিনি সেখানে স্থায়ী না হয়ে দেশে ফিরে আসেন।
ফটিকছড়ির আবু হানিফা মাদ্রাসার এক সাবেক শিক্ষক বলেন, ইমন নিয়মিত মাদ্রাসার মাঠে অনুশীলন করতেন। শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একজন তরুণ হিসেবেই তাঁকে চিনতেন। তখন তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন পরিণতির কথা কেউ ভাবেননি।
পরিবারের কয়েকজন সদস্য জানান, ইমন দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড়। তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেই সুযোগ কাজে লাগাননি বলে তাঁদের দাবি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৯ সালের দিকে ইমন ক্রিকেটে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রামের একটি ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হন। বাকলিয়া স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করতেন। ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবকে অনুসরণ করে বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ বোলিং করতেন। পরিচিত কয়েকজনের দাবি, নিয়মিত সুযোগ পেলে বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার সামর্থ্য তাঁর ছিল।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পারিবারিক আর্থিক সংকট, বাবার দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং পরিবারের দায়িত্বের কারণে ধীরে ধীরে ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যান ইমন। এরপর তিনি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গেও যোগাযোগ কমিয়ে দেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে ডেভিড ইমনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ইমনের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় তদন্তের সূত্র ধরে যশোরে অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমন ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, ডেভিড ইমন ফটিকছড়ি থানার হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।