ওসাপের পানি দিবস উদযাপন
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাছপালা কাটাসহ নানাভাবে প্রকৃতি নষ্ট করায় পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। এভাবে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটলে একটা সময় নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিতে পারে। এ কারণে পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে এবং পানির অপচয় রোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে সকলকে সচেতন হতে, তাহলে সুপেয় পানির সংকট অনেকটা কাটবে।
সোমবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে বিশ্ব পানি উদযাপন উপলক্ষে পরিবেশবাদী প্রতিষ্ঠান ওসাপ বাংলাদেশ আয়োজিত এক সভায় এসব মন্তব্য করেন বক্তারা।
এতে প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল হিমবাহ সংরক্ষণ; যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও নিরাপদ পানির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ আলোকপাত করে থাকে।
সভায় জানানো হয় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা প্রদানসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও পানিদূষণ কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
বক্তারা জানান, দূষিত পানিতে জনস্বাস্থ্য হুমকিতে মুখে পড়ে। বিশ্বে প্রতি চার জন মানুষের মধ্যে একজন নিরাপদ পানির অভাবে ভুগছে। দেশের ৪১ শতাংশ মানুষ এখনো নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অথচ দেশে নিরাপদ পানি পৌঁছানো গেছে ৫৯ শতাংশ মানুষের কাছে। দুর্গম এলাকা, গ্রামাঞ্চল ও শহরের বস্তি এলাকায় নিরাপদ পানি সহজে পাওয়া যায় না। পানিতে জীবাণু, আর্সেনিক ও লবণাক্ততা রয়েছে। এসডিজি লক্ষ্য পূরণ করতে হলে নিরাপদ পানির জন্য এখন কমপক্ষে চার গুণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন সভায় উপস্থিত আলোচকবৃন্দ।
ওসাপ প্রজেক্ট লিড মোহাম্মদ খোরশেদ এর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল এর পক্ষ্যে ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোরশেদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন স্লাম এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার মইনুল আহসান চৌধুরী জয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম এর সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও বিজ্ঞাপন বিভাগ প্রধান মোহাম্মদ বাবুল মিয়া এবং কমিউনিটি প্রতিনিধিবৃন্দ ।
বাংলাদেশ টেলিভিশন এর সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে পানি এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পানি ছাড়া যেমন আমাদের জীবন অচল; তেমনি জলবায়ু ও প্রকৃতি যা আমাদের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, তার স্বাভাবিক প্রবাহের জন্যও পানি অপরিহার্য। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিণত করার লক্ষ্যে আমাদের সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী গোলাম মোর্শেদ বলেন, গ্রামাঞ্চল ও শহরের বস্তি এলাকায় নিরাপদ পানি সহজে পাওয়া যায় না। পানিতে জীবাণু, আর্সেনিক ও লবণাক্ততা রয়েছে। এসডিজি লক্ষ্য পূরণ করতে হলে নিরাপদ পানির জন্য এখন কমপক্ষে চার গুণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিশেষে সভার সঞ্চালক মোহাম্মদ খোরশেদ সকলকে পানির ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোপূর্বক সকলের জন্য সুপেয় ও নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণে সকলের সর্বাত্মক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।