দক্ষিণ পূর্ব

ছাত্রলীগ নেতার নৃশংসতায় অনাথ ৭ মাসের শিশু

sathi
sathi
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পঠিত :
ছাত্রলীগ নেতার নৃশংসতায় অনাথ ৭ মাসের শিশু

মায়ের সাথে শিশু ইমতিয়াজ

আকতারুজ্জামান ফাহিম, পটিয়া
মাত্র সাত মাস বয়স। পৃথিবীটাকে এখনো চিনে উঠতে শেখেনি ইমতিয়াজ। বাবার আঙুল আঁকড়ে ধরা ছাড়া আর কোনো ভাষাই বোঝে না সে। অথচ সেই আঙুল আর কোনোদিন বাড়িয়ে দেবেন না তার বাবা মামুন। চট্টগ্রামে পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের ডেঙ্গাপাড়া গ্রামের এই ছোট্ট শিশুটি এখনো জানে না, তার বাবা আর নেই।

গত সপ্তাহে এলাকার সবার সামনে ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন প্রবাসী মামুন। নিহত মামুন ছিলেন আবুল বশরের ছেলে ও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ফাহিমের হাতে শেষ হয়ে গেল একটি সংসারের স্বপ্ন, ছিন্নভিন্ন হলো এক শিশুর ভবিষ্যৎ।

নিহতের স্ত্রী আখি আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'আমার ছোট্ট শিশুটি বাবার কোলে খেলে বেড়ানোর আগেই এতিম হয়ে গেল। আমার স্বামীর হত্যাকারীর বিচার চাই। সে যেন কোনোভাবেই রক্ষা না পায়।'

প্রবাসে ঘাম ঝরিয়ে সংসারের হাল ধরেছিলেন মামুন। ছোট্ট ঘরে হাসি-খুশি পরিবার গড়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে গেছে টুকরো টুকরো হয়ে। ছোট্ট ইমতিয়াজ এখনো বুঝতে পারছে না— জীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতা কীভাবে তার বুকের ভেতর জায়গা করে নিয়েছে।

মামুনের মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো ডেঙ্গাপাড়া গ্রাম। প্রতিবেশীরা বলছেন, 'এ হত্যার বিচার না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হবে।'

এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন বাবাকে কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছে একটি শিশুর হাসি, একটি নারীর শান্তি, একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। বাবাহীন শৈশব নিয়ে বড় হবে ইমতিয়াজ। তার প্রথম হাঁটা, প্রথম কথা, প্রথম হাসি— সবকিছুই হবে বাবাহীন জীবনের সাক্ষী।

মামুনের মৃত্যু যেন শুধু একটি পরিবার নয়, সমগ্র সমাজের কাছে এক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— কোথায় নিরাপত্তা? কোথায় ন্যায়বিচার?

প্রসঙ্গত, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের আলামপুর এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম প্রবাসী মামুনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামি ফাহিম পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এমএফও

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।