চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় নয় বছর বয়সী শিশু আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যা এবং লাশ গুমের আলোচিত মামলায় আসামি মো. রুবেলকে (৩৮) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি রুবেল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এ ছাড়া পৃথক ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও একটি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়নী। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় শিশুটির মা পাহাড়তলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তদন্তে স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয় দিন পর পাহাড়তলীর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির ব্যবহৃত পোশাক ও স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেন।
পরে আয়নীর মা চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ তদন্ত শেষে রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
তবে বিচার চলাকালে মামলার নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত ধর্ষণের অভিযোগের পরিবর্তে অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে বিচারকার্য পরিচালনা করেন।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সুযোগ নিয়ে বিড়ালছানা দেওয়ার কথা বলে রুবেল শিশুটিকে তার ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নিজের সবজিবাহী ভ্যানে করে একটি ডোবায় ফেলে দেন। ঘটনার পর থেকে রুবেল কারাগারে রয়েছেন।
রায় ঘোষণার পর আয়নীর মা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। এই রায়ের দ্রুত কার্যকর চাই। আদালতের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
অন্যদিকে, রুবেলের মা ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেন। আদালত প্রাঙ্গণে মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনে তিনি আহাজারি করতে থাকেন। তার দাবি, “আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।”