দক্ষিণ পূর্ব

পুলিশের গুলিতে পা হারানো সেই ছাত্রদল নেতাকে বাসা থেকে অপহরণের অভিযোগ

মনির ফয়সাল
মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারী ২০২৬
পঠিত :
পুলিশের গুলিতে পা হারানো সেই ছাত্রদল নেতাকে বাসা থেকে অপহরণের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক 

পুলিশের গুলিতে পা হারানো চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফকে আবারও উঠিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পুলিশ বিরুদ্ধে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার গুলশানে একটি বাসা থেকে তাকে উঠিয়ে নেয় পুলিশ। সাইফুল ইসলাম সাইফের পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাইফুল ইসলাম সাইফ পায়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিল। কিন্তু তাকে ঢাকা থেকে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

সাইফুল ইসলাম সাইফের ছোট ভাই শাহিন বলেন, বিগত সময় আন্দোলন করতে গিয়ে আমার ভাইকে ৩৫টি মামলা দেওয়া হয়। তাকে মেরে ফেলার জন্য অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আওয়ামী লীগের আমলের কোন ধরনের উদ্ধার দেখানো নাটক দেখতে চাই না। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে থাকার কারণে ইতোমধ্যে তার একটি পা হারিয়েছে। আমরা জানতে চাই তাকে কার ইশরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসাথে তাকে জনসম্মুখে হাজির করার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে জানি না। আপনার থেকে শুনলাম আমি।

এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম দক্ষিণপূর্বকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে পুলিশের একটি টিম এসেছে। তারা অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে। আমরা যতটুকু জানি তারা তাকে নিয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২১ সালের জুনে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হন মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। এতে কেটে ফেলা হয় তার একটি পা। এই ঘটনার সাইফুলের মা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাইফুলকে আটক করে ওসি কামরুজ্জামান ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় ক্রসফায়ারের নাটক সাজিয়ে তার পায়ে গুলি করেন ওসি।

মামলায় বায়েজিদ থানার তৎকালীন ওসি কামরুজ্জামান ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- বায়েজিদ থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মেহের অসীম দাশ, মো. সাইফুল ইসলাম, এএসআই মো. রবিউল হোসেন, এসআই কেএম নজিবুল ইসলাম তানভীর, এসআই নুর নবী ও বায়েজিদের আমিন জুট মিল এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহান ওরফে আকাশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৬ই জুন রাতে পুলিশের সোর্স আকাশ ফোন করে নগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামকে জরুরি কাজে অক্সিজেন এলাকার হোটেল জামানে দেখা করতে বলেন। সাইফুল সেখানে যাওয়ার পরেই বায়েজিদ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামানসহ পুলিশের সদস্যরা তাকে প্রাইভেট কারে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় সাইফুলের মোবাইল ও মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে রাত ১টার দিকে বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় নিয়ে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, সাইফুল চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওসি কামরুজ্জামান তার পায়ে গুলি করেন। এ সময় এসআই মেহের অসীম দাশও গুলি করেন সাইফুলের পায়ে। পায়ে রক্তক্ষরণ হতে হতে জ্ঞান হারান সাইফ। পরে তার জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারেন বাম পায়ে ব্যান্ডেজ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি আছেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে সাইফুলকে ঢাকা জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার পা কেটে ফেলা হয়। পরে সাইফুলের কাছ থেকে অস্ত্র পাওয়া গেছে বলে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয়।

ওই সময় এই ঘটনায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

এমএইচএফ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।