দক্ষিণ পূর্ব

ফটিকছড়িতে হালদা ভ্যালি চা বাগানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

Jalal Rumi
Jalal Rumi
প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬
পঠিত :
ফটিকছড়িতে হালদা ভ্যালি চা বাগানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ছবি:সংগৃহীত

ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের আনন্দপুর এলাকায় উচ্ছেদের আশঙ্কায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় ভূমিহীন ও নিম্নআয়ের শতাধিক পরিবারের সদস্যরা। শিল্পপতি নাদের খানের মালিকানাধীন হালদা ভ্যালি চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ তুলে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

 

রবিবার সকালে নারায়ণহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দপুর এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কয়েক দশক ধরে শতাধিক ভূমিহীন পরিবার বন বিভাগের জমিতে বসবাস করে আসছে। নিজেদের শ্রম ও অর্থ ব্যয়ে তারা বসতঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। সম্প্রতি হালদা ভ্যালি চা বাগান কর্তৃপক্ষ ওই জমিকে তাদের লিজ নেওয়া সম্পত্তি দাবি করে পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

বক্তারা আরও বলেন, পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ করা হলে অসংখ্য পরিবার মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এতে তারা মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারাবে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, হালদা ভ্যালি চা বাগান সরকার থেকে প্রায় এক হাজার ৩৪ একর জমি লিজ নিলেও বর্তমানে এর চেয়ে বেশি জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে নির্মিত সড়কে গেট স্থাপন এবং নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা বলেন, তারা উন্নয়নের বিরোধী নন। তবে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসবাসের অধিকার ক্ষুণ্ন করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

 

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন আনন্দপুর এলাকার সমাজপতি রুহুল আমিন সর্দার, মোহাম্মদ কামাল, সলিমুল্লাহ ও রাকিব উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা। তারা ভূমিহীন পরিবারগুলোর বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হালদা ভ্যালি চা বাগানের ব্যবস্থাপক এম এ কাসেম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

আজগর আলী/ আর এইচ/ দক্ষিণপূর্ব 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।