ফটিকছড়িতে হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলে পরিবারের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে বিকল্প জীবিকা কর্মসূচির আওতায় ১৮টি নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মাঝে ছাগল ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্বাচিত জেলেদের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হালদা নদীতে মাছের প্রজনন মৌসুমে জেলেদের মাছ আহরণ থেকে বিরত রেখে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে দুটি ছাগল, একটি ছাগলের ঘর, প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং ওষুধ প্রদান করা হয়েছে।
উপকারভোগীদের মধ্যে সমিতিরহাট ইউনিয়নের ৪ জন, রোসাংগিরি ইউনিয়নের ৪ জন, ভূজপুর ইউনিয়নের ৬ জন এবং নারায়ণহাট ইউনিয়নের ৪ জন জেলে রয়েছেন।
ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি জেলে পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং মাছের প্রজনন মৌসুমে নদীর ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।”
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ উপকারভোগী জেলে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য বিভাগ জানায়, ‘হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’ এর আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো হালদা তীরবর্তী জেলে পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন, টেকসই জীবিকার ব্যবস্থা এবং নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা। প্রকল্পটি ২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এর আওতায় জেলেদের জন্য বিভিন্ন বিকল্প আয়বর্ধক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আর এইচ