দক্ষিণ পূর্ব

ফটিকছড়িতে কিশোরকে পিটিয়ে মারার ঘটনা এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি

sathi
sathi
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫
পঠিত :
ফটিকছড়িতে কিশোরকে পিটিয়ে মারার ঘটনা এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি
নিজস্ব প্রতিবেদক 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্র মো. মাহিনকে চুরির মিথ্যা অভিযোগে মধ্যযুগীয় কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাটি আসলে একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নৃশংস এই ঘটনায় মাহিনের সাথে থাকা অন্য দুই কিশোরকেও মারধর করা হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হত্যার নৃশংস বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে মাহিন তার দুই বন্ধু রাহাত ও মানিকের সাথে চট্টগ্রাম শহর থেকে বাড়িতে ফিরছিল। রাত তিনটার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের সাকর আলী তালুকদার বাড়ির চেইঙ্গার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ৭-৮ জন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করে। চোর অপবাদ দিয়ে তাদের উপর আক্রমণ করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিন বন্ধু পার্শ্ববর্তী একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেয়।

আক্রমণকারীরা তাদের ধরে এনে চেইঙ্গার ব্রিজের রেলিংয়ের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাতভর নির্মমভাবে মারধর করে। মাহিনের ফুফু সুখী বেগমের বর্ণনা অনুযায়ী, মাহিন মৃত্যুর আগে পানি পান করতে চাইলেও তাকে পানি দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে মাহিনের বাবা মুহাম্মদ লোকমান ছেলেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। মারধরের একপর্যায়ে মাহিন ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

চুরির অভিযোগ ছিল সাজানো

এই ঘটনাকে স্থানীয়রা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলছেন। কারণ, যে বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেই বাড়ির মালিক মোবারক নিজেই সাংবাদিকদের বলেছেন যে তাদের বাড়িতে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। তিনি জানান, লোকজনের চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভাঙলে তিনি দেখেন যে স্থানীয় কয়েকজন ওই তিন কিশোরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
নিহত মাহিনের বাবা মো. লোকমান জানান, আক্রমণকারীরা মাহিনের বিরুদ্ধে টাকা চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলে। তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা মাহিনকে ছাড়েনি। বরং তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

নিহতের বাবা মো. লোকমান স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলেকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা বলেছে মাহিন নাকি টাকা নিয়েছে। আমি বলেছি, যদি নিয়ে থাকে আমি টাকা ফেরত দেব। তবুও তারা ছাড়েনি। আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।

কাঞ্চননগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল কাদের চৌধুরীও এই হত্যাকাণ্ডকে বেআইনি ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ছেলেটিকে চোর আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবার মামলা করার কথা জানিয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই যুবক, মো. নোমান ও আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং মূল হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আহত দুই কিশোর রাহাত ও মানিক এবং মাহিনের বাবা মুহাম্মদ লোকমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কতটা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। স্থানীয়দের মতে, এটি নিছক চুরির অভিযোগ ছিল না, বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহিনকে হত্যা করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে কিনা।

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।