নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে প্রেস ক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের কর্মসূচিতে শাহবাগপন্থী এক বাম নেত্রীকে লাথি মেরে ভাইরাল হওয়া বহিষ্কৃত জামায়াত ক্যাডার সিবগাতুল্লাহ প্রকাশ আকাশ চৌধুরী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
রবিবার (১ জুন) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে নগরের কোতোয়ালী থানায় এসে আকাশ আত্মসমর্পণ করেন। এর আগে আকাশ থানায় আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন লিখে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন এই তরুণ।
আকাশ চৌধুরীর পুরো নাম সিবগাতুল্লাহ চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নেছার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর পুত্র।ছাত্র শিবিরের কোন পদ পদবীতে না থাকলেও তিনি 'শিবির আকাশ 'নামে পরিচিত।তবে গত আগস্টের পর লাইমলাইটে আসা আকাশ নিজেকে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট ইউনিট জামায়াতের সেক্রেটারি বলে পরিচয় দেন।
এদিকে আজ আত্মসমর্পনের আগে ফেসবুক স্ট্যাটাসে আকাশ চৌধুরী লিখেন, 'প্রিয় দেশ বাসী আপনারা জানেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের শাহাবাগীদের সাথে ঘটে যাওয়া বিষয়টি আমি একজন মুসলিম হিসেবে আমার ঈমানী চেতনার জায়গা থেকে করেছি।শুনলাম প্রশাসন আমাকে খুঁজছে।আমি চোরও না ডাকাতও না। আমাকে প্রশাসন থেকে খুঁজতে হবে!'
আকাশ লিখেন,সাঈদী সাহেবের সেই মহান উক্তিটির কথা আজ খুব মনে পড়ছে। বিড়ালের মতো ৫০০ বছর বাঁচার দরকার নাই, সিংহের মতো ১ ঘন্টা বাঁচতে চাই।কাজেই আমি আমার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ জনদের সিদ্ধান্ত ক্রমে আজকেই চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানায় আত্মসমর্পন করার ঘোষণা দিচ্ছি। ইসকন, বাম, নাস্তিক ইসলাম বিদ্ধেষীদের একটা লাত্তি মারার কারনে যদি প্রশাসন আমাকে খুঁজে...। '
আকাশ লিখেন, 'দেশের ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতার কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই আমার আল্লাহ এবং রাসূল (সা:) এর কুটুক্তিকারী, শাপলা চত্বরে হাজারো আলেম ওলামার হত্যাকারী এবং জামায়াতের এতো গুলো নেতাকে রাজাকার ট্যাগ লাগিয়ে হত্যা কান্ড গুলোর বিচার কি হবে? আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দেশবাসীর কাছে দুআ কামনা করছি।'
এদিকে আকাশ আত্মসমর্পণ করলেও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আকাশ চৌধুরীকে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে আটক করেছি। গত বুধবার গণতান্ত্রিক জোটের কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, জামায়াত নেতা এটিএম আজাহারকে খালাস দেয়াকে কেন্দ্র করে গত ২৮ মে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বামপন্থী নেতাকর্মীদের সাথে জামায়াত শিবির সমর্থক শাহবাগ বিরোধী মঞ্চের সংঘর্ষ হয়।সেখানে হাতাহাতিতে বেশ কয়েকজন আহত হয়।গ্রেফতার করা হয় জামায়াত সমর্থক দুই জনকে। এরমধ্যে এক বাম নেত্রীকে শিবির সমর্থক বলে পরিচিত আকাশ চৌধুরী নামের এক যুবকের লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।বিষয়টি নিয়ে এরমধ্যে চলছে সমালোচনা।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়,জামায়াত - বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন সমর্থক ‘এন্টি শাহবাগ মুভমেন্ট’ কর্মীদের অতর্কিত হামলার পর প্রেসক্লাবের সংলগ্ন চট্টগ্রাম ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের সামনে আশ্রয় নেন গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের বাম নেতা-কর্মীরা। সেখানে একজন পুলিশ সদস্যকেও দেখা যায়। আকাশ চৌধুরী পুলিশের চোখ এড়িয়ে নেতা-কর্মীদের পেছন যান। সেখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ একজনকে লাথি মারেন তিনি। এরপর ঘুরে আবার আরেক নারীকে লাথি মারেন।