নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মসজিদে শিবিরের কুরআন ক্লাসে স্থানীয় বিএনপির কর্মীদের বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ ঘটে।
মঙ্গলবার বিকালে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের মোশাররফ আলী মিয়ার বাজার এলাকায় ঘটনার সূত্রপাত হয়। রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এর আগে খবর পেয়ে স্থানীয় বাহারছড়া ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপর চড়াও হয় বিএনপি কর্মীরা। পুলিশ সদস্যরা উপকূলীয় জেনারেল হাসপাতালে আশ্রয় নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকালে পশ্চিম বাঁশখালী দারুল ইসলাহ মাদ্রাসা মসজিদে কুরআন ক্লাসের আয়োজন করে ইসলামী ছাত্র শিবির। সেখানে তাদের কর্মসূচিতে বাঁধা দেয় স্থানীয় ছাত্রদল কর্মীরা। পরে বিএনপি ও ছাত্রদল কর্মী নয়ন ও তানভীরের নেতৃত্বে ১০-১২ জন গিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসার জন্য সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা মোশাররফ আলী মিয়ার বাজারে জড়ো হন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে চারজন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। এসময় বিএনপি কর্মীরা তাদের উপর হামলা চালায়। পুলিশ সদস্যরা পালিয়ে গিয়ে উপকূলীয় জেনারেল হাসপাতালে আশ্রয় নেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বাঁশখালী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, 'বিকালে শিবিরের কর্মসূচিতে একজনকে জোর করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপি কর্মীরা। এর জের ধরে জামায়াত ও বিএনপির উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।' পুলিশের উপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন ওসি।