দক্ষিণ পূর্ব

বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ সমাবেশস্থল

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ৯ আগস্ট ২০২৬
পঠিত :
বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ সমাবেশস্থল

ছবি

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন: 

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে উপকূলীয় এলাকা। রোববার ভোর থেকেই উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন সমাবেশস্থলে মিছিল নিয়ে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই বিশাল প্যান্ডেল ও সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

 

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের কর্মসূচি শেষে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীতে আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

 

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সমুদ্রপাড়ের পুরো এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকা থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগান নিয়ে মিছিল করে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জড়ো হন। এতে সকাল থেকেই মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

 

সমাবেশে আসা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয় যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের উপকূলীয় অঞ্চল বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে ঘরহারা মানুষের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিচ্ছেন, এটি বাঁশখালীবাসীর জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমরা ভোর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাঠ পূর্ণ করেছি।’

 

দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা জাগির হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ আগমন শুধু পুনর্বাসন কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বাঁশখালীর স্থানীয় অর্থনীতি ও বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতকে দেশ-বিদেশে নতুনভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ঘর হারানো ১০০টি অসচ্ছল পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে সরকার। পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পরিবারের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

 

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে সবচেয়ে অসচ্ছল ও ভিটেমাটি হারানো ১০০টি পরিবারকে বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলে সম্প্রদায় এবং মাটির ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারগুলোকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

 

প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। এতে রয়েছে দুটি কক্ষ এবং ৫ ফুট বাই ৫ ফুটের সংযুক্ত শৌচাগার। আরসিসি পিলার, টিন ও কাঠ ব্যবহার করে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহনশীল করে নির্মাণ করা হয়েছে ঘরগুলো।

 

অনুষ্ঠানে পুনর্বাসনের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তির মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কথা রয়েছে।

 

বাঁশখালীর পুনর্বাসন কর্মসূচি ও সুধী সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদরাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন।

 

এরপর হাটহাজারীতে গিয়ে কবর জিয়ারত করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের আর্থিক সহায়তা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। দিনের শেষভাগে চট্টগ্রাম নগরীতে আয়োজিত দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

 

দক্ষিণপূর্ব 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।