দক্ষিণ পূর্ব

‘বাংলাদেশ হবে সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ’ : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
‘বাংলাদেশ হবে সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ’ :  প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী তুলসীধামের কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, রথযাত্রা এখন শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, এটি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নগরের নন্দনকানন রথের পুকুরপাড় এলাকায় কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আয়োজনে রথপরিক্রমার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তুলসীধাম চট্টগ্রামের একটি ঐতিহাসিক তীর্থস্থান। এখানকার প্রায় তিনশ বছরের পুরোনো রথযাত্রা আজ সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এই ঐতিহ্য শুধু ধর্মীয় অনুভূতির নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতিরও প্রতীক।

 

ঋষিধাম অধিপতি ও তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপানন্দ পুরী মহারাজের পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তিনি বলেন, নন্দনকাননের ঐতিহাসিক রথের পুকুরপাড় থেকে যুগ যুগ ধরে কেন্দ্রীয় রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। হাজারো ভক্তের উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ।

 

মেয়র বলেন, রথের পুকুরপাড়ের ঐতিহ্য কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, একটি গোষ্ঠী নানা অজুহাতে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদ। রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে।

 

কেন্দ্রীয় রথযাত্রার উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার। তিনি বলেন, রথযাত্রা ভগবানের বিশেষ কৃপার প্রতীক। এ সময় ভগবান মন্দির থেকে বের হয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আসেন। তাই রথযাত্রাকে সর্বজনীন করুণার উৎসব বলা হয়।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিরন্ময় ধর এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক বিধান ধর।

অ্যাডভোকেট সুজন কান্তি দে ও অনুপম দেবনাথ পাভেলের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব ধর তমাল, অভয়মিত্র মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ প্রিয় পাল, পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্লব চৌধুরী বিল্লু, চট্টগ্রাম মহানগর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্যসচিব বাপ্পী দে, আনন্দময়ী কালী মন্দির পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ, সুজিত হাজারী, অধ্যাপক প্রণব মিত্র চৌধুরী, স্থপতি প্রণত মিত্র চৌধুরী, ডা. মনোজ চৌধুরী, রঞ্জন প্রসাদ দাশগুপ্ত, উত্তম কুমার চক্রবর্তী, সোনারাম ধর, শ্যামদাশ ধর, সজল চৌধুরী, প্রদর্শন দেবনাথ প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে অতিথিদের কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

 

বক্তারা বলেন, তুলসীধামের রথযাত্রার ইতিহাস প্রায় তিনশ বছরের। অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে চট্টগ্রামে রথযাত্রা উৎসবের প্রচলন শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় সেটিই এখন কেন্দ্রীয় রথযাত্রায় রূপ নিয়েছে। রথযাত্রার দিন সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবিও জানান তাঁরা।

 

পরে তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজের নেতৃত্বে অতিথিরা রথের দড়ি টেনে কেন্দ্রীয় রথপরিক্রমার উদ্বোধন করেন। এর আগে ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রকে রথে আরোহন করানো হয়।

 

তুলসীধামের কেন্দ্রীয় রথের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণায়ন, মনোহরখালী, মাইজপাড়া, শাহাজীপাড়া, ফিরিঙ্গীবাজার টেকপাড়া, এনায়েতবাজার কেদারনাথ তেওয়ারী কলোনি, টাইগারপাস জগন্নাথ সংঘ, গঙ্গাবাড়ী, পূর্ব মাদারবাড়ী, সদরঘাট জেলেপাড়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের রথ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

 

এ ছাড়া কক্সবাজার, রামু, টেকনাফ, মহেশখালী, উখিয়া, চকরিয়া, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, ফটিকছড়ি, বাঁশখালী ও খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অদ্বৈত-অচ্যুত মিশনের ভক্ত এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা রথযাত্রায় অংশ নেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো ভক্ত পায়ে হেঁটে ও ট্রাকে চড়ে নামসংকীর্তন এবং জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রের জয়ধ্বনি দেন। রথ থেকে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ ও আশীর্বাদ বিতরণ করা হয়।

 

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের নির্ধারিত রুট অনুযায়ী রথযাত্রা নিউমার্কেট, লালদীঘির মোড়, আন্দরকিল্লা, চেরাগী পাহাড়, প্রেসক্লাব ও লাভলেইন হয়ে পুনরায় নন্দনকানন রথের পুকুরপাড়ে এসে শেষ হয়।

 

রথযাত্রা উপলক্ষে তুলসীধামে দিনব্যাপী নামযজ্ঞ, জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলভদ্রের পূজা, ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠান, চিকিৎসাসেবা ক্যাম্প এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়।

 

আরএইচ/

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।