নগরীর বাকলিয়ায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আগামীকাল বুধবার রায়ের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ আদেশ দেন। আদালতে মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্র গ্রহণ থেকে শুরু করে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক পর্যন্ত পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া মাত্র সাত কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত দিনে রায় ঘোষণা হলে আট কার্যদিবসের মধ্যেই মামলাটির বিচার শেষ হবে, যা সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়ার একটি নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী জানান, মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে। তাই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ মে নগরীর বাকলিয়া থানার নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির হোসেনকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। সে সময় এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরদিন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। একই দিন আদালতে হাজির হয়ে আসামি মনির হোসেন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ স্বল্প সময়ে তদন্ত সম্পন্ন করে গত ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়।
গত ৮ জুন আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন থেকে শুরু হওয়া সাক্ষ্যগ্রহণে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়।
মামলার আসামি মনির হোসেন (৩০) বাকলিয়ার মিয়াখাননগর এলাকায় বসবাস করতেন। তার স্থায়ী বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়।
আরএইচ