বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলার মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের ঋণের চাপ সইতে না পেরে মাতামুহুরি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সেলিনা বেগম(৩৬) নামের এক গৃহবধূ।
বুধবার (১৮ জুন) লামা উপজেলার পার্শ্ববর্তী কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বুমু বিলছড়ি ইউনিয়নের বমু নয়া পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সেলিনা বেগম (৩৬) একই এলাকার রোস্তম আলীর (৪২) স্ত্রী।
ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড থেকে সেলিনা বেগম ১৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে। ২০১৮ সাল থেকে সেই ঋণের কিছু অংশ বকেয়া থাকায় তা বর্তমানে সুদে-আসলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা হয় বলে দাবি করে মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড। সেই ঋণের চাপ সইতে না পেরে তিনি সামাজিক লোকলজ্জা ও স্বামীর অত্যাচারের ভয়ে খরস্রোতা মাতামুহুরি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করে। পরবর্তীতে একজন নারী ঝাঁপ দিতে দেখলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেলিন বেগমকে উদ্ধার করা হয়।
মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড থেকে ঋণ গ্রহণকারী সেলিনা বেগম বলেন, আমাকে মাঠকর্মী এসে বলে জুন মাস চলছে, আজ নির্ধারিত তারিখে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তাই আজ ঋণ পরিশোধ করুন, তা না হলে আমাদের অফিসে আসুন।
তিনি আরও বলেন, সুদে-আসলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। এর চেয়ে আমার এ জীবন নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া ভালো এ চিন্তা করে আমার বাড়ির পাশে মাতামুহুরি নদীতে ঝাঁপ দেই। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা আমাকে নদীতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে।
সেলিনা বেগমের স্বামী রুস্তম আলী বলেন, আমি ২০১৮ সাল থেকে চট্টগ্রাম শহরে থাকাকালীন সময়ে আমার স্ত্রী মৌচাক থেকে ১৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে। তাকে মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করলে সে বলে কিছু ঋণ কিস্তি হিসেবে দিয়েছি আবার পরবর্তী বছর সমন্বয় করে ঋণ নিচ্ছি। আমি কিছুদিন আগে ঈদে বাড়ি আসলে জানতে পারি সেই ঋণ এখন ২ লাখ ৫০ টাকায় পরিনত হয়েছে। আমরা গরীব মানুষ, এ ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবো। এই ভয়ে আমার স্ত্রী মাতামুহুরি নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, লামা মৌচাক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুর শুক্কুর বলেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেরেছি সেলিনা বেগম তার স্বামীর সাথে পারিবারিক সমস্যার কারণে নদীতে ঝাঁপ দেয়। আমাদের থেকে পরপর দুইবার ঋণ নিয়ে পরিশোধ করলেও সর্বশেষ ২০১৯ সালে আবারও ১ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে সে টাকা পরিশোধ করেননি। ঋণ পরিশোধ না করতে তিনি এমন কান্ড ঘটিয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন।