দক্ষিণ পূর্ব

বান্দরবানে পাহাড়িকা প্লান্টেশনে অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক কারাগারে

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬
পঠিত :
বান্দরবানে পাহাড়িকা প্লান্টেশনে অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক কারাগারে

ফাইল ছবি

বান্দরবানের লামায় অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প গ্রুপ 'ক্লিফটন গ্রুপ'-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান 'পাহাড়িকা প্লান্টেশন লিমিটেড'-এর প্রায় ৫৭ লাখ ৩২ হাজার ৭০৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. রবিউল হোসেন ভূঁইয়াকে (৬৬) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তিনি পাহাড়িকা প্লান্টেশন লিমিটেডের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক (সুপারভাইজার) ছিলেন এবং বর্তমানে চাকরিচ্যুত।

 

​গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এবং মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসানুল ইসলাম শুনানি শেষে আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্লিফটন গ্রুপের আইনজীবী ও চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট রুবেল পাল।

 

​অভিযুক্ত মো. রবিউল হোসেন ভূঁইয়া বান্দরবানের লামা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বৈল্যারচর এলাকার মৃত আবদুল জলিল ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য।

 

​মামলার নথি থেকে জানা যায়, ক্লিফটন গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পাহাড়িকা প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের মালিকানাধীন বান্দরবানের লামা থানার চাম্বি, গজালিয়া, দরদরি, পৌঁপা, লামা ও ছাগলখাইয়া মৌজার রেকর্ডভুক্ত জমিতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ফলজ ও বনজ বাগান পরিচালনা করে আসছে।

 

​পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৪০৮ ও ৪২০ ধারায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ফৌজদারি মিস মামলা নং ২৯৫৭/২০২৬, যা সি.আর মামলা নং ৩২৮৫/২৫ (কোতোয়ালি থানা) এবং মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি মিস মামলা নং ১৫৩৯৫/২০২৬-এর সাথে সম্পৃক্ত। ক্লিফটন গ্রুপের এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন গ্রুপের সহকারী ম্যানেজার (ভূমি) মোহাম্মদ সেলিম (৫০)। সিআর মামলাটি বিজ্ঞ আদালত তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, চট্টগ্রামকে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন।

 

​তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে প্রকল্পের আয়-ব্যয়ের হিসাবে গরমিল দেখা দিলে প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ অডিট পরিচালনা করে। অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, প্রজেক্ট-২ এর ভূমি ও বিভিন্ন খাত থেকে আয়কৃত ৪ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ২২০ টাকার বিপরীতে বিবাদী ৪ কোটি ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৪ টাকার হিসাব প্রদান করেছেন। বাকি ৫৭ লাখ ৩২ হাজার ৭০৬ টাকার কোনো হিসাব তিনি দিতে পারেননি।

 

​এদিকে, জামিন কনফার্ম করার জন্য ১৮ জুন, ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোহাম্মদ সেলিম মামলার কাজে আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে যান। এ সময় আসামি মো. রবিউল হোসেন ভূঁইয়া তাকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। রবিউল হোসেন হুমকি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না করলে পাহাড়ি সন্ত্রাসী দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই তুলে নিয়ে গিয়ে প্রাণনাশের ব্যবস্থা করা হবে।

 

​এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে মোহাম্মদ সেলিম কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১৫৩৯, তারিখ ১৮/০৬/২০২৬) দায়ের করেছেন। 

 

ক্লিফটন গ্রুপের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ সেলিম জানান, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে ক্লিফটন গ্রুপের মালিকের নাম উল্লেখে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা মানহানিকর বটে।

 

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।