দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
মহা ধুমধামে অঞ্জলি, আরতি, পূজা-অর্চনায় শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীতে দেবীর দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় এই উৎসবের সমাপ্তি হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ জানিয়েছেন, রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে দশমীর পূজা শুরু হয়। দর্পণ বিসর্জনের পর দুপুর ১২টায় শুরু হবে স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি। বিকেল ৩টা থেকে বিজয়ার শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে শেষ হবে।
এবার দেবীর আগমন ছিল গজে এবং গমন দোলায়। ঢাকেশ্বরীসহ বিভিন্ন মন্দিরে সিঁদুরখেলার আয়োজন থাকছে। বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করে একে অপরকে পরিয়ে দেবী বিদায়ের আবহকে আরও বর্ণময় করবেন।
রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপে নবমীতে ছিল ভক্তদের ব্যাপক সমাগম। সকাল থেকে নবমী বিহিত পূজা, অঞ্জলি নিবেদন, চণ্ডীপাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে রাত পর্যন্ত। পূজা কমিটির আহ্বায়ক চন্দন লোধ জানান, প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ভক্ত বনানী মণ্ডপে এসেছেন। এখানে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার ভক্তকে প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে। এবারের সাজসজ্জায় পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, প্রতিমায় সাদা ও রুপালি রঙে আনা হয়েছে বিশেষ স্নিগ্ধতা।
গুলশান, বনানী ও উত্তরার প্রায় ৩০টি প্রতিমা আজ আশুলিয়ায় বিসর্জন দেওয়া হবে। একইভাবে ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মণ্ডপে নবমীতে প্রায় ১০ হাজার ভক্ত অঞ্জলি দিয়েছেন। এখানেও প্রতিদিন কয়েক হাজার ভক্তকে প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে।
গতকাল মহানবমীতে রাজধানীর সব পূজামণ্ডপ ঢাকঢোলের বাদ্যে মুখর ছিল। দেবী মহিষাসুর বধ করে অসুর নিধনের মধ্য দিয়ে ভক্তদের মনোবাসনা পূর্ণ করেছেন। আজ বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য শারদীয় দুর্গোৎসব।
এসএস