দক্ষিণ পূর্ব

বিনিয়োগ-রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত, আনোয়ারায় ফ্রি ট্রেড জোন অনুমোদন

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬
পঠিত :
বিনিয়োগ-রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত, আনোয়ারায় ফ্রি ট্রেড জোন অনুমোদন

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন-এফটিজেড) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি (সিসিইএ)। সরকারের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

 

বুধবার অনুষ্ঠিত সিসিইএর বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

 

বেজার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দেশে আধুনিক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে। এ উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ১০টি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

 

কমিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফ্রি ট্রেড জোনের আইন, নীতিমালা, প্রণোদনা কাঠামো ও পরিচালন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে একটি সুপারিশমালা প্রণয়ন করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে অবকাঠামোগত সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংযোগ, লজিস্টিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বিবেচনায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী আনোয়ারাকে দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোন স্থাপনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

 

বেজার মতে, এ অঞ্চল চালু হলে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও লজিস্টিক কেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

 

এর আগে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বেজার গভর্নিং বোর্ডের নবম সভায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালার সংস্কার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০, কাস্টমস আইন-২০২৩, ওয়্যারহাউজ লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২৪, আমদানি ও রপ্তানি নীতি আদেশ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, জাতীয় শিল্প নীতি-২০২২ এবং জাতীয় লজিস্টিকস নীতিমালাসহ বিভিন্ন বিধি-বিধান পর্যালোচনা ও হালনাগাদের কাজ চলছে।

 

বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ফ্রি ট্রেড জোন মডেলে যাওয়ার উপযুক্ত সময়। এর মাধ্যমে দেশকে আঞ্চলিক গুদাম ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

তিনি বলেন, রপ্তানিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সে কারণে ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের জন্য একটি স্বাভাবিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ মডেল সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাংলাদেশও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়।

 

আর এইচ 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।