দক্ষিণ পূর্ব

বুড়িগঙ্গার চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির পথে চট্টগ্রামের প্রাণরেখা

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
বুড়িগঙ্গার চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির পথে চট্টগ্রামের প্রাণরেখা

ছবি : কর্ণফুলী নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য

জাহেদুল ইসলাম

চট্টগ্রামের জীবনরেখা কর্ণফুলী নদী আজ কেবল একটি জলধারা নয়, বরং বিষাক্ত বর্জ্য আর অব্যবস্থাপনার এক বিশাল ‘ভাগাড়ে’ পরিণত হয়েছে। হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়ার মতে, এই নদীর দূষণ এখন ঢাকার বুড়িগঙ্গা বা শীতলক্ষ্যার চেয়েও ভয়াবহ; এটি কেবল জোয়ার-ভাটার কারণে সাধারণ মানুষের চোখে দৃশ্যমান হয় না।


পরিবেশ অধিদপ্তর এবং নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনকারীদের মতে, নদীর তলদেশে এখন ৭ থেকে ১০ ফুট পুরু প্লাস্টিক ও পলিথিনের এক অভেদ্য স্তর জমেছে। প্রতিদিন গড়ে ২৩৯ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ছে। চট্টগ্রাম নগরীর ৫৭টি খালের মাধ্যমে প্রায় ৬০-৭০ লাখ মানুষের সমস্ত মলমূত্র ও গৃহস্থালি বর্জ্য কোনো শোধন ছাড়াই এই নদীতে গিয়ে মিশছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ল্যাব পরীক্ষায় পানিতে নাইট্রেট এবং ফসফেটের মাত্রা বিপদজনক পর্যায়ে পাওয়া গেছে।


নদীর দুই তীরে থাকা প্রায় ২০০টি শিল্পকারখানা, বিশেষ করে সিইউএফএল, ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং কর্ণফুলী পেপার মিল নিয়মিত ইটিপি না চালিয়েই বিষাক্ত রাসায়নিক সরাসরি নদীতে ঢালছে। সম্প্রতি এস আলমের চিনি কারখানার বর্জ্যে নদীতে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে।


ড. কিবরীয়া বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের নামে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে, যা আসলে অপচয়। এই টাকা যদি বর্জ্যের উৎসস্থলে সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করা হতো, তবে নদীকে প্লাস্টিকমুক্ত রাখা সম্ভব ছিল।


এক সময়ের সমৃদ্ধ কর্ণফুলীতে ১৯৮৬ সালেও ১৫ প্রজাতির পরিযায়ী মাছ পাওয়া যেত, যা এখন কমে বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন মাত্র ৫টি প্রজাতিতে ঠেকেছে। রিটা, ইলিশ, রূপচাঁদা ও পাবদা এখন এই নদীতে অতীত স্মৃতি। দূষণের ভয়াবহতায় কর্ণফুলীতে এখন কোনো স্থায়ী ডলফিনের অস্তিত্ব নেই; বর্ষায় কিছু ডলফিন এলেও তারা ড্রেজারের আঘাত ও প্লাস্টিক কণা খেয়ে অকাল মৃত্যুর শিকার হচ্ছে।


বর্তমানে নদীটি একটি ‘মরা নদীতে’ পরিণত হয়েছে। ওয়াসা এবং সিটি কর্পোরেশনের আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা এবং শিল্প মালিকদের খামখেয়ালিপনায় কর্ণফুলী তার প্রাণশক্তি হারিয়েছে। আগামী ৫০-১০০ বছরের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান ছাড়া এই অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডকে রক্ষা করা অসম্ভব। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে চট্টগ্রামের মানচিত্র থেকে কর্ণফুলীর মৃত্যু কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র

 

আরএইচ / দক্ষিণপূর্ব 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।