দক্ষিণ পূর্ব

বৈছাআ নেতা পরিচয়ে শ্রমিক নেতার কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি, অত:পর

sathi
sathi
প্রকাশ : ৫ জুলাই ২০২৫
পঠিত :
বৈছাআ নেতা পরিচয়ে শ্রমিক নেতার কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি, অত:পর
 নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে মব সৃষ্টি করে নওশেদ জামাল নামে এক শ্রমিক নেতাকে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ ওঠেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দেওয়া নেজাম উদ্দিন নামে একজনের বিরুদ্ধে৷ তাকে গ্রেপ্তার করিয়ে মিথ্যা মামলায় চালান করা হয়েছে৷ ভুক্তভোগী শ্রমিক নেতার স্ত্রী রিয়াজুল জান্নাত নগর পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগে এসব কথা জানান৷ গ্রেপ্তার শ্রমিক নেতাকে ফ্যাসিস্টের দোসর বলে মব সৃষ্টি করা হলেও তিনি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। 


গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) নগরের পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন কেবলস লিমিটেডের দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে৷ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নওশেদ জামাল চট্টগ্রামের মেঘনা পেট্রোলিয়ামে মেঘনা পেট্রোলিয়াম এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (বি ২২১২)। তিনি জামায়াতে ইসলামীর রুকন বা সদস্য হিসেবে দলটিতে কাজ করেন । নগরের বাগমনিরাম দক্ষিণ সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সেক্রেটারির দায়িত্বে রয়েছেন।  

নওশেদ জামালের স্ত্রী জানান, কিছুদিন ধরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে নেজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি তার স্বামীর কাছ থেকে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তার স্বামী তাকে বলেছিলেন আমি সারা জীবন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি। এরপরও নানাভাবে বৈছাআ’র ওই নেতা আমার স্বামীকে ফাঁসিয়ে দিতে চক্রান্ত করতে থাকেন। সর্বশেষ পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন কেবলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দফতরে বসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ফাঁসানোর চক্রান্ত চূড়ান্ত করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় আগ্রাবাদ মেঘনা পেট্রোলিয়াম অফিসে যাওয়ার পথে ১০-১৫ জনের একটা গ্রুপ মব সৃষ্টি করে আমার স্বামীকে ব্যাপক মারধর করে। একপর্যায়ে তারা আমার স্বামীকে কোতোয়ালী থানা পুলিশে সোপর্দ করে। 

তিনি আরও জানান, কোতোয়ালী থানার ওসি আবদুল করিম ও কথিত বৈছাআ নেজাম মোটা অংকের টাকা লেনদেন করেছেন। 

এদিকে চাঁদাবাজির একটি ভিডিও আমাদের হাতে এসেছে। ভিডিওটি তদন্তপূর্বক কথিত বৈষম্যবিরোধী নেতাকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া নেজামের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান শ্রমিক নেতার স্ত্রী। 

তিনি আশঙ্কা করেন, চট্টগ্রামের আরো অন্যান্য থানার জুলাই আগস্ট সময়ের মামলায় আমার স্বামীকে আসামি করানোর পাঁয়তারা করছে চক্রটি। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব নেজাম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে শিক্ষার্থীরা ধরে পুলিশে দেয়। তিনি আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠনের নেতা৷ তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে৷ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে আমি মামলা নিয়ে জেলে যাব এবং প্রমাণ করতে না পারলে আমার সংগঠনের মানহানীর জন্য মামলা করব৷ 

এম 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।