চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আরও দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। নিহতরা হলেন, বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুর গ্রামের নূর ছফার ছেলে নূর নবী হৃদয় (২৫) এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল দাশ (৫৩)। উজ্জ্বল দাশ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পোমরায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে জীবন্ত কবর দেওয়া ১৪ শহীদের অন্যতম শহীদ বিরাজ দাশের ছেলে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, রবিবার বিকেল ৩টার দিকে উজ্জ্বল দাশ এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে নূর নবী হৃদয় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বিস্ফোরণের পর গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাদের হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, উজ্জ্বল দাশের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং নূর নবী হৃদয়ের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালীর কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ১১ জন শ্রমিক দগ্ধ হন। দুর্ঘটনার পর থেকেই গুরুতর আহতদের নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছিল।
নূর নবী হৃদয়ের খালা নার্গিস আক্তার জানান, ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন হৃদয়। মাত্র দুই বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল। তার এক বছর দুই মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। আইসিইউতে নেওয়ার আগে হৃদয় পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘চোখের অংশ পুড়ে গেছে, আমি চোখে দেখতে পাচ্ছি না। আমাকে সবাই মাফ করে দেবেন। আমার ছোট্ট ছেলেটার খেয়াল রাখবেন।’ শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, উজ্জ্বল দাশের স্বজনরা জানান, সংসারের আর্থিক সংকট কাটাতে দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডে কাজ শুরু করেছিলেন। নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।প্রয়োজনে এটিকে আরও মানবিক আবেগঘন বা দৈনিক পত্রিকার লিড স্টাইলে সম্পাদনা করে দিতে পারি।
ইই