দক্ষিণ পূর্ব

ভরা মৌসুমেও নাগালের বাইরে ইলিশ

Jalal Rumi
Jalal Rumi
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৫
পঠিত :
ভরা মৌসুমেও নাগালের বাইরে ইলিশ
মাসুমুল ইসলাম

চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে আসতে শুরু করেছে রূপালী ইলিশ। ছোট, মাঝারি, বড়-তিন আকারের ইলিশই মিলছে বাজারে। কিন্তু এখনি ইলিশের স্বাদ নেওয়া সবার জন্য একটু কঠিনই। কেননা দাম যে আকাশচুম্বি। 

চট্টগ্রামের বৃহত্তম মাছের আড়ত ফিশারিঘাটে শুক্রবার ভোরে গিয়ে দেখা যায় প্রায় দুই মাস পর কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠেছে পুরো বাজার। জেলেদের হাঁকডাক। হাতে হাতে ইলিশ বোঝাই খাঁচা। চারপাশে ইলিশের ছড়াছড়ি। জেলে আর বিক্রেতাদের মুখে মুখে তাই খুশির ঝিলিক। কিন্তু দাম শুনে ক্রেতাদের মন যেন একটু খারাপ।

১৫ জুন মধ্যরাত থেকে সাগরে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরায় ৫৬ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর মাছ ধরতে সমুদ্রে যাওয়া নৌকা-জাহাজগুলো ফিরতে শুরু করেছে। তবে এখনো সেভাবে ধরা পড়ছে না ইলিশ।

ফিশারিঘাটে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় দুই কেজি ওজনের ইলিশগুলো বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৮০০ শত টাকায়। ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৭০০-১৮০০ এবং ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশগুলো বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকায়। 
বহদ্দারহাট থেকে ফিশারিঘাটে ইলিশ কিনতে এসেছিলেন এনাম উদ্দিন। তিনি বলেন,মনে করেছিলাম অমাবস‍্যার ভরা জোয়ারে ইলিশ কম দামে কিনতে পারব। সেজন্য ছুটির দিনে ছুঁটে এলাম ইলিশ কিনতে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি ইলিশ এখনো আমাদের পাতে পড়বে না। তাই ইলিশ ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে।’

একই কথা বলেন হালিশহর থেকে আসা ব্যবসায়ী জাবেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম দাম একটু কম হবে। কিন্তু এসে দেখি অনেক বেশি। এক কেজি ওজনের দুটি ইলিশ কিনলাম ৩ হাজার ৪০০টাকায়।’

জেলেরা জানান, আবহাওয়াজনিত কারণে এখনো সেভাবে ইলিশ ধরা পড়ছে না। আর এখন সাগর  উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে যাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য দাম বেশি। তবে আশা করছি সামনে সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। তখন এমনিতেই দাম কমে যাবে।’

ইলিশ বিক্রেতা সজল সেই কথা মনে করিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, ‘সাগর শান্ত হলে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে। কেননা এখন বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছিল জেলেদের। সামনে পুর্ণিমার ভরা জোয়ার  আছে, আশা করছি তখন ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।

ইলিশের দাম বাড়তি হলেও, সাগরের অন্যান্য মাছের দাম ক্রেতাদের আয়ত্বে আছে। সেগুলো প্রায় আগের দামেই মিলছে। কিছু কিছু মাছের দাম কমেছেও। তবে ফিশারিঘাটের তুলনায় অন্যান্য কাঁচাবাজারগুলোতে মাছের দামে অনেক তফাৎ দেখা গেছে। কেননা বেশিরভাগ বাজারের ব্যবসায়ীই এই ফিশারিঘাট থেকে মাছ কিনে বিক্রি করেন। ফলে ইলিশের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতেই ২০০-৩০০টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।