দক্ষিণ পূর্ব

ভোটের মাঠে কোমর বেঁধেছে চট্টগ্রাম জামায়াত

sathi
sathi
প্রকাশ : ৭ জুন ২০২৫
পঠিত :
ভোটের মাঠে কোমর বেঁধেছে চট্টগ্রাম জামায়াত

রফিক মোহাম্মদ 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে- তা এখনও  অনিশ্চিত। তবে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত সম্ভাব্য সময় ধরেই নির্বাচনে অংশ নিতে জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার সব আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।

সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ এলাকায় সভা-সমাবেশসহ নানাভাবে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এ সময় ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নানা কৌশলে আগাচ্ছে দলটি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রামের মোট ১৬ আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা এখন মাঠে। প্রার্থীদের মধ্যে আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির সভাপতি থেকে শুরু করে শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী ও দলটির দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতারা। হেভিওয়েট নেতা চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর শাহজাহান চৌধুরীর সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে একটু জটিলতা তৈরি হলেও সেটা কেটে গেছে এখন। নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখাসহ বুথভিত্তিক ইউনিট কমিটি গঠন করে সাধারণ মানুষের কাছে দলের 'দাওয়াত' পৌঁছাচ্ছেন প্রার্থীরা।

জানা যায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম ১ (মিরসরাই) আসনে এডভোকেট সাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম ৩ (সন্দ্বীপ) আলাউদ্দিন শিকদার, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আনোয়ারুল সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) শাহজাহান মঞ্জুর, চট্টগ্রাম-৭ ( রাঙ্গুনিয়া) অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম -৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) ডা. আবু নাসের , চট্টগ্রাম -৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) ডা. ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী-পাহাড়তলী- হালিশহর) অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) শফিউল আলম, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) ডা. ফরিদুল আলম,  চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান,চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) ডা.শাহাদৎ হোসাইন, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মাওলানা জহিরুল ইসলাম।

জানা যায়, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ৭টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে নানা কৌশল নির্ধারণ করেছে দলটির হাইকমান্ড। সবটুকু 'শক্তি' প্রয়োগ করে ভোটের মাঠে এখন থেকেই সকল জনশক্তিকে নামানোতে প্রস্তুতি নিয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সেই আসনগুলো হলো  সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, মিরসরাই, সীতাকুণ্ড , সন্দ্বীপ ও খুলশী- পাঁচলাইশ আসন। এছাড়া 
চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক ও কোতোয়ালি-বাকলিয়া-চকবাজার আসনও রয়েছে জামায়াতের টার্গেটে।

এদিকে চট্টগ্রামের ১টি আসনের  মধ্যে ৪ টিতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত। এই ৪ জনকে দলটির প্রার্থী বাছাইয়ে সবচেয়ে বড় চমক ধরা হচ্ছে। জামায়াতের এই চিকিৎসক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কোতোয়ালি-বাকলিয়া-চকবাজার আসনে ডা. একেএম ফজলুল হক। তিনি চান্দগাঁওয়ের ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হসপাতালের গভর্নিংবডির চেয়ারম্যান। একইসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের সংগঠনের সভাপতি।
চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনে জামায়েতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। একইসঙ্গে তিনি ডাক্তারদের সংগঠন বিএমএ’র টানা তিনবারের সাংগঠনিক সম্পাদক। পটিয়া আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রামের স্বনামধন্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র শেভরনের চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুল আলম। আর চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী ডা. শাহাদৎ হোসাইন শেভরন আইহসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক।

এদিকে নির্বাচনে প্রার্থীদের বিষয়ে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের  ডজনখানেক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের অধিকাংশই প্রার্থী সিলেকশন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ভোটের প্রায় এক বছর সময় থাকতেই প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়াকে দলের ভালো সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তারা। যদিও দুইটি আসনের প্রার্থী নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন কয়েকজন নেতা।

তবে একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধীদের সঙ্গে জোট হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যে কারণে কয়েকটি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সেখানে কিছুটা দুর্বল প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাউজান, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া আসন ইসলামী দলগুলোকে ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এলডিপি’র চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীর-বিক্রম চন্দনাইশ আসন থেকে নির্বাচন করলে সেটি তাকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। 

এ বিষয়ে কথা হয় মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর সঙ্গে। হেফাজতের এই কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব দলের ভেতরে বেশ জনপ্রিয়। তিনি নেজামে ইসলাম পার্টির একাংশের মহাসচিব। ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের বিষয়ে তাকে নিয়মিত সরব থাকতে দেখা যায়। জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে তাকে পটিয়া আসন ছেড়ে দেয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন আছে। আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘নির্বাচন তো আরও কিছুদিন বাকি। জোটে গিয়ে নির্বাচন করার বিষয়ে ওইভাবে কথা বলা হয়নি। তবে আমি মনে করি, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসলাম প্রিয় দলগুলোকে এক প্লাটফর্মে আসা দরকার।’ 

এদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট  ৭ টিও আসনেও আনুষ্ঠানিকভাবে  প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলার ৪ টি আসনের মধ্যে চকরিয়া - পেকুয়ায়  আব্দুল্লাহ আল ফারুক,মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় ড. মাওলানা এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ,কক্সবাজার সদর, রামু, ঈদগাঁও আসনে শহীদুল্লাহ বাহাদুর ও উখিয়া-টেকনাফ আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী মনোনয়ন পেয়েছেন।আর পার্বত্য  জেলাসমূহের মধ্যে  খাগড়াছড়ি  আসনে  এয়াকুব আলী চৌধুরী,  রাঙামাটি আসনে  অ্যাডভোকেট মোখতার আহমেদ ও বান্দরবান আসনে অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। 

 প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও দলের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা শাহজাহান বলেন, ‘চট্টগ্রামের সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।  তবে এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কেন্দ্র মনে করলে যেকোনো মুহূর্তে প্রার্থী তালিকা হালনাগাদ করতে পারে। আর আমরা বৃহত্তর ঐক্যের জন্য বড় ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত।’

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।