চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষা ও প্রশাসনে থাকা দুই উপ-উপাচার্যের মেয়াদ শেষের আগেই দুজন শিক্ষককে নতুন উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন (একাডেমিক) এবং রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম (প্রশাসন)।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ।
নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ২০১৮ সাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের একজন বলিষ্ঠ শিক্ষক।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ড. মোহাম্মদ আল-আমীনকে পাঁচ শর্তে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেগুলো হলো— উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে ৪ বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ-এর মধ্যে যা পূর্বে ঘটে সেই সময় পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন; উপর্যুক্ত পদে তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতনভাতাদি পাবেন; তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি দ্বারা নির্ধারিত ও ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও চবির রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. সফিকুল ইসলাম।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১৪(১) অনুযায়ী মো. সফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসরে যাওয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেটি আগে হবে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন। এ ছাড়া বিধি অনুযায়ী তিনি পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
জানতে চাইলে চবির নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, শুরুতেই শুকরিয়া জানাই মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে, কেননা তার পক্ষ থেকে আমার উপর এই দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এক্সিলেন্সি বৃদ্ধি করা আমার প্রধান দায়িত্ব হবে। আমি সর্বোচ্চ দিয়ে সেই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
ইই