পেনাল্টি মিসের যন্ত্রণা মাত্র ৩০ মিনিট স্থায়ী হলো। তারপরই বল পায়ে নিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের কার্লিং শটে গোল। গোলকিপার ঝাঁপিয়েও লাভ হলো না। গোলের সাথেই ভাঙলেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড। আবারও ইতিহাস লিখলেন লিওনেল মেসি।
শতকোটি মানুষের বুক ধক করে ওঠা সেই পেনাল্টি মিসের পর মাথা নিচু করে হেঁটেছিলেন তিনি। ৩০ মিনিট পর মেসিসুলভ প্রত্যাবর্তন। অসাধারণ গোলে শুধু ম্যাচই বাঁচালেন না, বিশ্বকাপের রেকর্ডবুকেও নিজের নাম সবার উপরে তুলে নিলেন।
২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল হার, ২০১৬ কোপা আমেরিকা ফাইনাল হার—টানা ব্যর্থতায় কেঁদেছিলেন, অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন মেসি। তারপর ফিরে এসে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ জিতে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন—ট্রফি ছাড়া মেসি অসম্পূর্ণ, মেসি ছাড়া ট্রফিও অসম্পূর্ণ।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন লিওনেল মেসি। কাতার ২০২২ থেকে ২০২৬—টানা দুই বিশ্বকাপে গোল, অ্যাসিস্ট করে তিনি প্রমাণ করলেন বয়সটা তার কাছে শুধুই একটা সংখ্যা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সোনার বল, সোনার বুট জিতে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন মেসি। ২০২৬-এ এসেও ব্যক্তিগত আরেকটি মাইলফলক ছুঁলেন তিনি।
রেকর্ড ৮ বার বিশ্বসেরার পুরস্কারের গৌরব মেসির। ২০০৯ থেকে ২০২৩—১৪ বছরের এই রাজত্ব। তার আগে-পরে এমন ধারাবাহিকতা নেই কারও।
বার্সেলোনা কিংবদন্তি মেসি। ন্যু ক্যাম্পে ৭৮ ম্যাচে ৬৭২ গোল। এক ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখনও মেসির দখলে। ১০ নম্বর জার্সিটা যেন তার জন্যই।
মেসির ক্যারিয়ারে ৮০+ গোল, ৩৫০+ অ্যাসিস্ট। গোল করতে পারেন তিনি, করাতেও পারেন—ডি-বক্সের আশেপাশে বল পেলেই গোলের গন্ধ পান প্রতিপক্ষ।
মাঠের বাইরে ভদ্রতা তার আলাদা পরিচয়। প্রতিপক্ষকে ফাউল করে ফেললে নিজেই হাত বাড়িয়ে তোলেন। গোলের পর চুপচাপ আকাশের দিকে তাকান। ড্রিবলিংয়ে ৩-৪ জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে যান যেন স্ট্যাচু পেরোচ্ছেন।
ম্যারাডোনার দেশে ম্যারাডোনার পর মেসিই যেন ফুটবলের ঈশ্বর। রোজারিওর সেই ছোট ছেলে, যে হরমোনজনিত সমস্যার কারণে দেশ ছেড়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছিল, আজ গোটা ফুটবল বিশ্বের অনুপ্রেরণা। বুয়েন্স আয়ার্সের অলি-গলিতে এখনও বাচ্চারা বলে—'একদিন মেসির মতো হবো।'
পেনাল্টি মিস মেসিকে থামাতে পারে না। সমালোচনা পারে না। বয়সও পারে না। ৩০ মিনিটের ব্যবধানে তিনি দেখিয়ে দিলেন—ফুটবলে শেষ কথা বলার অধিকার একমাত্র তার।
বিশ্বকাপের গোলের রেকর্ড ভাঙলেন। কিন্তু আসল রেকর্ডটা কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে যে ভালোবাসা গড়েছেন, সেটা কেউ ভাঙতে পারবে না।
মাসুদ ফরহান অভি/আর এইচ/ দক্ষিণপূর্ব