রমজানের শুরুতে আমদানি বৃদ্ধি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় প্রধান ভোগ্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের মূল্যচাপ তৈরি হয়নি। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। যদিও মাসের শুরুতে বন্দরকেন্দ্রিক আন্দোলন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ছুটির কারণে সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছিল, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে বাড়তি চাহিদার এ সময়ে সরবরাহ শৃঙ্খল নির্বিঘ্ন রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।দেশের ভোগ্যপণ্যের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ঘুরে ও আমদানিকারকদের সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, বাজারে ছোলা, মটর ও খেজুরের কোনো সংকট নেই। বিশেষ করে ছোলার আমদানি বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় দাম কম রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, মটর ডাল ছাড়া রমজানকেন্দ্রিক প্রায় সব পণ্যের আমদানি গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও গমের আমদানি ঊর্ধ্বমুখী। খেজুরের আমদানি প্রায় আড়াই শতাংশ কমলেও আগের মৌসুমের মজুত থাকায় সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
আমদানিকারকদের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ভোগ্যপণ্যের আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এতে রমজানজুড়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টিন স্টেশনের হিসাবে, গত আট মাসে খেজুর আমদানি হয়েছে ৫২ হাজার ৬৮৯ মেট্রিক টন, ছোলা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন, মসুর ডাল ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৮৯ মেট্রিক টন। এছাড়া আপেল এসেছে ৭৯ হাজার ৭০২ মেট্রিক টন এবং কমলা/মাল্টা ১ লাখ ১১ হাজার ১২৮ মেট্রিক টন।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজান সামনে রেখে বেচাকেনা জমে উঠেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে পণ্য আসছে নিয়মিত। ব্যবসায়ীদের দাবি, ছোলা, চিনি, পেঁয়াজ, খেসারি ও খেজুরসহ অধিকাংশ রমজানপণ্যের সরবরাহ চাহিদা মেটানোর মতোই রয়েছে; কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ বেশি।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহে ডালজাত পণ্যে সীমিত মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। ছোলা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮২ টাকায়। মসুর ডাল মানভেদে ৭৫ থেকে ১৬০ টাকা, খেসারি ৭৬ থেকে ৮০ টাকা এবং মুগডাল ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বন্দরসংক্রান্ত অস্থিরতা ও নির্বাচনী বিরতির প্রভাবেই এ ওঠানামা।
পাইকারি ব্যবসায়ী পি কে মজুমদার দক্ষিণপূর্বকে জানান, গত বছর ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হওয়া মটর চলতি বছর ৫১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান মটর রয়েছে ৭৬ টাকায়। ভাল মানের ডাল ১৪২ থেকে ১৫১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মেসার্স সুমন ট্রেডিংয়ের মালিক সঞ্জয় দেব বলেন, আমদানি স্বাভাবিক থাকায় ছোলা-মটরসহ বেশিরভাগ পণ্যের দাম স্থিতিশীল। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রমজানে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। তবে আগের বছরের তুলনায় বেচাকেনা কিছুটা কম।
খুচরা বাজারেও একই প্রবণতা। কিচেন মার্কেটের মুদি বিক্রেতা মো. মামুন হোসেন জানান, কয়েক দিন ক্রেতা কম থাকলেও রোজা ঘনিয়ে আসায় কেনাকাটা বাড়ছে। তার ভাষ্য, দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকায় সামনে বিক্রি বাড়বে।
খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ জাহেদী বলেন, পেঁয়াজের মৌসুম চলায় সরবরাহ ভালো এবং বেচাকেনা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫৫ টাকায়। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম কেজিতে প্রায় ৬ টাকা বেড়েছে।
আরএইচ