বিশেষ প্রতিনিধি
রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মধ্যে ইফতারির আইটেমই চাহিদার সর্বাগ্রে থাকে। রোজা এলে বাজার তালিকায় ছোলা, তেল, চিনি, খেঁজুর, খেসারি, মসুর ডালের হিসেব কষতে হয় সবার আগে। তবে এই ৬ পণ্যের দাম এবার আগের তুলনায় নাগালের মধ্যে আছে। ফলে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসবের দাম বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। সামনে আরও কমতে পারে দাম। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেল গেল ২ মাস ধরেই বাজারে উধাও। ভোক্তাদেরও ভরসা এখন খোলা সয়াবিনে। এতোদিন দাম নিয়ে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বিতর্ক হলেও মঙ্গলবার থেকে জেলা প্রশাসন নতুন দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন ১৬০ টাকা বিক্রি করতে হবে খোলা সয়াবিন তেল। অন্যথায় গুণতে হবে জরিমানা।
সরেজমিনে দেশের বৃহত্তর ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে দেখা যায়, এবার পাইকারিতে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা। আর খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১১০ ও ১২০ টাকা। তবে রমজানের শুরুতে ছোলা পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকা ও ১৩৫ টাকা। আর খুচরায় বিক্রি হয় ১৪০ টাকা।
বর্তমানে পেঁয়াজ পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে দেশী ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। খুচরায় তা ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা। একইভাবে দেশী পেঁয়াজ খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।
রমজানের অন্যতম পণ্য মসুর ডাল। খাতুনগঞ্জে বর্তমানে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা থেকে ৯৫ টাকায়। আর খুচরায় ১১০ টাকায়। এছাড়াও ছোট মসুর ডাল পাইকারি ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। খুচরায় বিক্রি হয় ১৫০-১৫৫ টাকা।
জানা গেছে, এতোদিন বোতলজাত সায়বিন তেল না থাকায় অনেকেই পাম অয়েল তেল ও খোলা তেল ক্রয় করেন। পাম তেল মূলত মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এটি বিভিন্ন বেকারিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়াও ওষুধে পাম অয়েল তেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজানে বেশি চাহিদা হওয়াতে বোতলজাত করার সময় নেই। রমজানে গ্রাহকের কাছে দ্রুতসময়ে তেল পৌঁছে দিতে খোলা তেল ছাড়া হচ্ছে। এতে বোতল ও মার্কেটিংয়ের খরচ সেইভ হচ্ছে। ফলে কম দামে তেল ছাড়া যাচ্ছে। গ্রাহকও স্বস্তি পাচ্ছে তেল কিনে। তবে খোলা সয়াবিন তেল পরিশোধন করেই বাজারে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোম্পানির প্রতিনিধিরা।
তবে বোতলজাত সয়াবিন তেল বর্তমানে একেবারেই উধাও। কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তাও বলা যাচ্ছে না। ঈদের আগে বোতলজাত তেল বাজারে আসবে কিনা সেটি নিয়েও আছে যথেষ্ট সন্দেহ। তবে কোম্পানিগুলোই খোলা তেল বাজারে ছাড়ছে। এতোদিন দাম নিয়ে নানা তালবাহানা চললেও মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন দিয়েছে সুখবর।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেছেন, এখন খোলা তেল ১৬০ টাকা বিক্রি করতে হবে। কেউ যদি বেশি দামে বিক্রি করে তাহলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। কোথাও বেশি দামে বিক্রি হলে জেলা প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেছেন তিনি।
খাতুনগঞ্জে বর্তমানে চিনি পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১২৫ টাকা। লাল চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। খুচরাতে সাদা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। জাহেদী জাতের খেঁজুর বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৮০ টাকা, দাব্বাজ খেঁজুর কেজি ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, মাশরুক কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা, নাকাল খেঁজুর বিক্রি হচ্ছে কেজি ২৮০ টাকা আর চড়া খেঁজুর বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজিতে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খাতুনগঞ্জে রমজানের জরুরি ৬ পণ্যই আগের তুলনায় দাম কমেছে। সামনে আরও কমবে।
এদিকে পাইকারীতে দাম তুলনামূলক অনেক কমলেও খুচরায় এর তেমন প্রভাব পড়েনি। ছোলায় আগের চেয়ে মাত্র ১০ টাকা কমলেও কোথাও সেটিও অপরিবর্তিত। ফলে বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে রোজার অন্যতম এই আইটেমে।
নগরের হালিশহরের বাসিন্দা আরাফাতে এলাহী বলেন, পাইকারিতে দাম কমলে আমাদের কোন লাভ নেই। কেননা আমাদেরকে খুচরাই কিনে খেতে হয়। প্রতিবছর রোজার মাস আসলে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে আমাদেরকে বাড়তি দামে কিনতে হয় সব পণ্য। আমাদের দেশে পণ্য সামগ্রীর দাম বাড়ার নজির আছে, কমার নজির খুবই কম।
শেরশাহ এলাকার বাসিন্দা মো. রাজু বলেন, যেসব পণ্য সবচেয়ে বেশি লাগে সেগুলোর দাম কমে না। চিনির দামতো কমছেই না। যারা নিন্ম আয়ের মানুষ তারা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন। কেন সবকিছুর দামে উর্ধ্বগতি।
খাতুনগঞ্জের এক ব্যবসায়ী বলেন, সরকার ছোলা, তেল, খেঁজুরে শুল্ক কমিয়ে ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়েছে। এই সুযোগে গেল বছরের তুলনায় খেঁজুর বেশি আমদানি হয়েছে ৭ হাজার ৮৯৭ টন। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি বাজারে। পাইকারি বাজারের ছয় ধরনের খেজুরে 35 টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে খুচরাই ঐতিহাসিক প্রভাব পড়েছে। এরপরও অনেকের কাছে সহজলব্য হয়ে উঠছে না খেঁজুর।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, রমজানে ছোলা, চিনিসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ বেশ ভালো। আমদানি পণ্যের সরবরাহ থাকায় দাম কম। তিনি বলেন, দাম কম হলেও আশানুরূপ বিক্রি বাড়েনি।