দক্ষিণ পূর্ব

রাউজানে এবার গোলাম আকবর গ্রুপের যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

sathi
sathi
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৫
পঠিত :
রাউজানে এবার গোলাম আকবর গ্রুপের যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক 
চট্টগ্রামের রাউজানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আলমগীর প্রকাশ ডাকাত আলম (৫৫) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন।তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারী বলে পরিচিত।এই ঘটনায় আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা গটে।

নিহত আলমগীর আলম  রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজানের সিদ্দিক চৌধুরী বাড়ির আবদুস সত্তারের ছেলে।তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে।দীর্ঘদিন কারাভোগ করে গত ৫ আগস্টের পর তিনি জামিনে মুক্তি পায়। স্থানীয়ভাবে যুবদলের কর্মী বলে পরিচিত হলেও তিনি দলের কেউ নয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনের একটি অংশের নেতারা।নিহত আলমগীরের বিরুদ্ধে ডজনখানেক ডাকাতি মামলা আছেন বলে জানিয়েছে তারা।

 আলমগীরের ছেলে আসফায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, শনিবার দুপুরে পরিবারের সবাই মিলে পূর্ব রাউজান রশিদ পাড়ায় ফুফুর বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে কায়কোবাদ আহম্মদ জামে মসজিদের সামনে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি করে আমার বাবাকে হত্যা করে। 

রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আলমগীর নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কে বা কারা গুলি করে পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রাউজান পৌরসভা যুবদলের সদস্য সচিব শাহজাহান শাহিল বলেন,বিকেলে পৌরসভায় আলম নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।বলা হচ্ছে তিনি যুবদলের কর্মী।তবে বিষয়টি সত্য নয়।যুবদলের রাজনীতির সাথে তার কোন সম্পৃক্তা নেই।

এদিকে যুবদল নেতা আলমগীরের মৃত্যুতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা  গোলাম আকবর খোন্দকার। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি বলেন,নিহত আলমগীর আওয়ামী শাসনামলে দীর্ঘ ১২ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি কারামুক্ত হয়েছিল। আজকে সে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের এ সময়ে রাউজানের বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নির্মমভাবে খুন হলো। 

বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রকৃত খুনী এবং খুনের নির্দেশ দাতাদের যে বা যারা যত বড় গডফাদারই হউক না কেন তাদেরকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন এবং রাউজানের আতংকিত আপাময় জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্যও জোর দাবী জানিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি’র দুই কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘাতে রক্তাক্ত জনপদে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা। গত এক বছরে বিএনপির ১৪ নেতাকর্মীসহ ১৭ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর গিয়াস কাদের সমর্থিত বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিমকে  প্রাইভেটকারে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।