দক্ষিণ পূর্ব

রাতভর অভিযানে উদ্ধার ‘সিএনসি ইউরেনাস’, স্বাভাবিক চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ৪ আগস্ট ২০২৬
পঠিত :
রাতভর অভিযানে উদ্ধার ‘সিএনসি ইউরেনাস’, স্বাভাবিক চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম

ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক 

 

কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আটকে পড়া মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এমভি সিএনসি ইউরেনাসকে রাতভর পরিচালিত সমন্বিত উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড অংশ নেয়। বর্তমানে জাহাজটি নিরাপদে বহির্নোঙরের ‘বি’ (ব্রাভো) অ্যাঙ্করেজে অবস্থান করছে এবং বন্দরের নৌ চলাচল ও পণ্য খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

তিনি জানান, সোমবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে চীনের শিকৌ বন্দর থেকে আসা ১৭০ মিটার দীর্ঘ কনটেইনারবাহী জাহাজটি কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলে প্রবেশের সময় স্টিয়ারিং বিকল হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে জাহাজটি ২ নম্বর লাল বয়ার সঙ্গে ধাক্কা লেগে নদী মোহনার পাশের রিটেইনিং ওয়ালে আটকে যায়।

 

জাহাজটিতে প্রায় ১ হাজার ২৮২ টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) কনটেইনার এবং মাস্টারসহ ২৪ জন নাবিক ছিলেন। এর স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এপিএল (বাংলাদেশ)।

 

ঘটনার পরপরই বন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানে বন্দরের চারটি টাগবোট—‘কাণ্ডারী-২’, ‘কাণ্ডারী-৪’, ‘কাণ্ডারী-৬’ ও ‘কাণ্ডারী-১১’—এর সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ‘শিবসা’, টানেল কর্তৃপক্ষের একটি টাগবোট এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ‘প্রমত্ত’সহ মোট সাতটি টাগবোট অংশ নেয়। পাশাপাশি নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা নেভিগেশন চ্যানেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করেন।

 

উদ্ধারকারী দল সারারাত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যায়। প্রয়োজনে জাহাজের ড্রাফট কমাতে কিছু কনটেইনার খালাসের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল। তবে সমন্বিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত জাহাজটিকে নিরাপদে ভাসিয়ে এনে ব্রাভো অ্যাঙ্করেজে নোঙর করানো সম্ভব হয়।

 

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো উদ্ধার অভিযানের সময় নৌ চলাচল সচল ছিল এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

 

সফল এ অভিযানে অংশ নেওয়া পাইলট, টাগবোটের ক্রু, নৌ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের প্রধান প্রবেশদ্বার। দ্রুত সময়ের মধ্যে জাহাজটি উদ্ধার হওয়ায় বন্দর কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত সক্ষমতারও প্রমাণ মিলেছে।

 

আরএইচ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।