চট্টগ্রামে বিএনপির চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তৃণমূলের মতবিনিময় সভায় ডেলিগেট নির্বাচন নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলনে থাকা অনেক নেতা-কর্মী ডেলিগেট কার্ড না পেলেও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী এবং অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন—এমন কয়েকজনকে ডেলিগেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে ওই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, সভায় প্রায় ৭০০ ডেলিগেট উপস্থিত ছিলেন। তবে কার্ড না থাকায় আরও কয়েক শ নেতা-কর্মী হোটেলের বাইরে অপেক্ষা করেন।
এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেলিগেট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ। ‘রেডিসন ব্লুর ৭০০ ডেলিগেট কারা’—এমন প্রশ্ন তুলে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন। তাঁদের দাবি, ডেলিগেটদের তালিকা প্রকাশ করা হলে নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে।
তৃণমূলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মামলা, হামলা ও কারাবরণের শিকার হওয়া অনেক নেতা-কর্মী এবার মূল্যায়ন পাননি। তাঁদের বদলে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও বিতর্কিত অতীতের ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সোনা মানিক বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ৫৩টি মামলা রয়েছে এবং তিনি ৯ বার কারাগারে গেছেন। সাংগঠনিক পদেও থাকার পরও তিনি ডেলিগেট কার্ড পাননি। তাঁর ভাষায়, ‘এত মামলা ও কারাবরণের পরও যদি কার্ড না পাই, তাহলে তৃণমূলের কর্মীদের মূল্যায়ন কোথায়?’
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আলী মর্তুজা দাবি করেন, ‘মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আলী মর্তুজার দাবি, তার বিরুদ্ধে ১২৫টি রাজনৈতিক মামলা ছিল। তিনি বলেন, ‘এত ত্যাগের পরও ৭০০ জনের তালিকায় নাম নেই। ব্যক্তিগত পছন্দ আর স্বজনপ্রীতিতে ডেলিগেট ঠিক করা হলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ ডেলিগেট কার্ড না পেয়ে সভা বর্জন করেছেন মহানগর যুবদলের সাবেক নেতা এমদাদুল হক বাদশাও। তৃণমূলের নেতারা এখন প্রতিটি ডেলিগেটের নাম, পদ, ইউনিট ও কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।’
ডেলিগেট কার্ড না পেয়ে সভা বর্জন করেছেন মহানগর যুবদলের সাবেক নেতা এমদাদুল হক বাদশাও।
তৃণমূলের নেতারা এখন প্রতিটি ডেলিগেটের নাম, সাংগঠনিক পদ, ইউনিট এবং কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, তালিকা প্রকাশ করা হলে কারা কীভাবে ডেলিগেট হয়েছেন, তা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান হতে পারে।
এদিকে সভার ভেতরের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিতর্ক আরও বাড়ে। বিএনপির একটি অংশের অভিযোগ, ছবিতে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে অতীতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের যোগাযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ছাত্রদল কর্মী জাহিদুল ইসলাম, খলিলুর রহমান এবং সাবেক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ রাসেলসহ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেলিগেট নির্বাচন ও দুঃসময়ের নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ডেলিগেট কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।