দক্ষিণ পূর্ব

হাটহাজারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল ল্যাপটপ আত্মসাতের অভিযোগ

sathi
sathi
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৫
পঠিত :
হাটহাজারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল ল্যাপটপ আত্মসাতের অভিযোগ
হাটহাজারী প্রতিনিধি 

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ১০নং উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের আমতুয়া এলাকায় উত্তর মাদার্শা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের  প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল ল্যাবের সরকারি সম্পদ (ল্যাপটপ) আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে এ ঘটনা ঘটলেও নেয়া হয়নি কোন আইনি পদক্ষেপ। হাটহাজারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকেও বিষয়টি অবগত করা হয়নি। 

স্থানীয়দের তথ্যমতে, বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও দীর্ঘদিন ধরে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় ম্যানেজিং কমিটি সহ অন্যান্যদের ম্যানেজ করে নেয় ওই প্রধান শিক্ষক। ধামাচাপা পড়ে যায় সরকারি সম্পদ নয়ছয়ে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১৫/১৬ সালে তৎকালিন সরকার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ল্যাবের জন্য ১৭টি ল্যাপটপ প্রদান করেন। নিয়মিত শিক্ষাদানের কথা থাকলেও সেখানে সম্পূর্ণ নিজের মত করে পরিচালনা করা হয় ডিজিটাল ক্লাস। 

এদিকে ২০২২ সালে শিক্ষার্থীদের ইকোনোমিক আইডি'র আওতায় আনতে পাঁচটি ল্যাপটপ দেয়া হয় পাঁচ শিক্ষককে। নিয়ম অনুযায়ী অফিসে বসে কাজ করার নির্দেশনা থাকলেও ওই শিক্ষকরা সরকারী প্রদত্ত ল্যাপটপ নিজেদের ব্যবহারের উপযোগী করে নেন, খেলেন গেমসও।

পরবর্তীতে কাজ শেষে পাঁচটি ল্যাপটপ শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে জমা দিলেও হঠাৎ একটি উধাও হয়ে যায়। গুজব উঠে বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ চুরির। নিজের দায় এড়াতে অভিযুক্ত চুরির অভিযোগ তুলে দেন শিক্ষকদের কাঁধে। তবে কারো বিরুদ্ধেই নেননি কোন আইনি পদক্ষেপ। জানানো হয়নি তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে। ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশনে লিখেই দায় এড়িয়ে যান প্রধান শিক্ষক।

এদিকে সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইন পত্রিকায় ডিজিটাল ল্যাবের বেহাল দশা শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে তা নিয়েও বিরুপ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি সাংবাদিকদের করা প্রতিবেদনকে ভুয়া বলেও অবহিত করেন। জানতে চাইলে ল্যাপটপ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে চুরি হয়েছে দাবি করে তৎকালিন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির উপর দোষ চাপিয়ে বলেন, উনার পরামর্শক্রমে কিছু করা হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, সরকারি সম্পদ নয় কেবল বিদ্যালয়ে কোন চুরি ডাকাতি হলে নিয়ম হল নাইট গার্ডকে উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষককে থানায় জিডি করা। একটি ল্যাপটপ উধাও কিন্তু কোন আইনি পদক্ষেপ না নেয়া অবশ্যই এটা দুঃখজনক। অভিযুক্ত দায় এড়াতে পারেন না। তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থায় প্রয়োজনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।

এসময় প্রতিবেদকের উপস্থিতিতেই অভিযুক্তকে যাবতীয় অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামি তিনদিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশনা দেন ওই কর্মকর্তা। 
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম মশিউজ্জামান জনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।