জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। পরে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন তারা।
বৃহস্পতিবার পীরগঞ্জে আবু সাঈদের কবর জিয়ারতে অংশ নেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের এই দিনে রংপুরের সন্তান ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে তৎকালীন সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে তার শাহাদাতের মধ্য দিয়েই গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের দিকে অগ্রসর হয়।
তিনি বলেন, “আবু সাঈদ আমাদের শহীদদের ইমাম, জুলাই বিপ্লবের রুহানি নেতৃত্ব এবং আমাদের সকলের পূর্বসূরি। তার আত্মত্যাগই হাজারো মানুষকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে।”
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “শুধু আবু সাঈদ নন, শহীদ মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফারহান ফাইয়াজ, নাঈমা সুলতানা, রিয়া গোপ, হৃদয় চন্দ্র তরুয়াসহ আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া সব শহীদকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে আহত এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, আলেম, নারী, প্রবাসী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদানও আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।”
তিনি বলেন, “আজকের এই দিনটি শুধু স্মরণ বা শ্রদ্ধা নিবেদনের নয়। যে আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে আবু সাঈদসহ অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন, সেই বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের দায়িত্ব।”
জুলাই-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু বিচার ও সংস্কারের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকর করতে হবে। দেশের মানুষ সেই রায় কার্যকর হতে দেখতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “আবু সাঈদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা আশা করি।”
কবর জিয়ারত শেষে এনসিপির নেতারা শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেন।
আরএইচ