ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সততা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সমার্থক দুটি শব্দ। তার দেশপ্রেম ও সততা নিয়ে কঠোর সমালোচকরাও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেননি। একজন মানুষের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় অর্জন।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে নগরীর শহীদ জিয়া স্মৃতি জাদুঘর অডিটোরিয়ামে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে জিয়াউর রহমানের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর হেলাল বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, ‘আই উইল মেক পলিটিক্স ফর দ্য পলিটিশিয়ানস’। তিনি রাজনীতিকে ব্যক্তিস্বার্থের নয়, মানবসেবার হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের রাষ্ট্রনায়কদের তুলনায় তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী। রাষ্ট্র পরিচালনার স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অন্যদের ছাড়িয়ে যেতে পেরেছিলেন, কারণ তিনি দেশপ্রেম ও সততাকে রাজনৈতিক কর্মপন্থার মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, “শহীদ জিয়া বিশ্বাস করতেন রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য হবে, নিজের উন্নতির জন্য নয়। তাই তার আদর্শ ধারণ করে মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করতে হবে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি সংকটময় সময়ে জিয়া পরিবার দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫-পরবর্তী সময়, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে জিয়া পরিবারের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
তিনি বলেন, “জিয়া পরিবারের দর্শন একটাই—বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন। তাদের লক্ষ্য বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। তাই আমাদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যাতে জিয়া পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।”
মীর হেলাল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক ভূমিকা অনস্বীকার্য। শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর দেশের মানুষের সামনে ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তাই এখন সরল ও সাবলীলভাবে মানুষকে সত্য ইতিহাস জানাতে হবে। শহীদ জিয়ার জীবনাদর্শ সম্পর্কে নিজেদের জানতে হবে এবং নতুন প্রজন্মকেও জানাতে হবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মঈনুদ্দিন রাশেদ, সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, জহিরুল হক টুটুল, এম আবু বক্কর রাজু, রাজিম উদ্দিন আকন্দ, মহসিন কবির আপেল, দিদার হোসেন, হারুনুর রশিদ, গোলাম সরোয়ার, আব্দুল হালিম গুড্ডুসহ মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা।
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচএফ