ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
পাহাড়, ঝরণা, সারি সারি চা-বাগান ও রাবার বাগানসহ বিস্তীর্ণ সমতল কৃষিজমি নিয়ে গঠিত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা। শীতের আগমন মানেই এখানে নতুন প্রাণের ছোঁয়া, প্রকৃতি-সংস্কৃতি ও কৃষির সজীব মিলনমেলা। পাহাড়ঘেরা, নদী-খালবেষ্টিত এই জনপদের গ্রামাঞ্চলে শীত আসে বিশেষ বৈচিত্র্য নিয়ে,যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এনে দেয় নতুন ছন্দ ও আনন্দ। স্থানীয়দের মতে, “ফটিকছড়ির শীত মানেই প্রকৃতির সজীবতা, মানুষের আনন্দ আর জীবনের উৎসব।”
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কেউ কাস্তে হাতে ধান কাটছেন, কেউ বা ভ্যানগাড়িতে করে নতুন ধান বাড়ি নিচ্ছেন। রাস্তার দুই পাশে বিছানো ধানে ছড়িয়ে পড়েছে শীতের রোদের উষ্ণতা। কেউ খাল থেকে মাটি তুলছেন, কেউ বা হাঁটুপানি ভেঙে বাঁশ পরিবহন করছেন। বিকেল নামতেই বিবিরহাট, নাজিরহাট ও তকিরহাটে বসে শীতের ঐতিহ্যবাহী পিঠার হাট। ভাপা, পাটিসাপটা, চিতই পিঠা আর নানা ধরনের স্বাদের চাটনি। নারী উদ্যোক্তাদেরকেও দেখা যায় ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে শীতের পিঠা বিক্রি করতে।
নাজিরহাটের সজল চক্রবর্তী বলেন, “ফটিকছড়িতে শীতের ভোর মানে গ্রামজুড়ে সোনালি ধানের সুবাস আর ক্ষেতজুড়ে ধান কাটা, ঝাড়াই-মাড়াই ও শুকানোর ব্যস্ততা।”
সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম জানান, শীতের হালকা কুয়াশা নামতেই ফটিকছড়ির প্রকৃতি, কৃষিকাজ, আধ্যাত্মিক পরিবেশসহ সবকিছুই অনন্য সৌন্দর্যে সেজে ওঠে।
এদিকে ফটিকছড়িতে বছরজুড়ে শাক-সবজির চাষাবাদ হলেও শীতকাল সবজি চাষের প্রধান মৌসুম। নাজিরহাট, নানুপুর, বখতপুর, ভূজপুর, খিরাম ও বাগানবাজার—সব জায়গায় এখন সবুজের ঢেউ। বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, শিমসহ শীতের নানা সবজির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। নতুন সবজির সরবরাহে জমজমাট হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাজার, চাঙা হয়েছে অর্থনীতি।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এ বছর অক্টোবর–নভেম্বরে ঝড়ো হাওয়া না থাকায় ফলন ভালো হবে বলে তারা আশাবাদী।
এদিকে শীতের পোশাক কেনাকাটায় বাজারগুলোতেও ভিড় বাড়ছে। নানুপুর বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, “এবার আগেভাগেই সোয়েটার, জ্যাকেট, টুপি-গ্লাভস মজুদ করেছি।”
ক্রেতা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “শিশুদের জন্য শীতের পোশাক কেনাই আমাদের বিশেষ আনন্দ।”
প্রতিবছর ফটিকছড়িতে শীত মানেই ওরশ ও বার্ষিক মাহফিলের উৎসবমুখর মৌসুম। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন-পৌরসভায় রয়েছে একাধিক মাজার আর উপজেলা জুড়ে রয়েছে প্রায় ১৩৫টি কওমি মাদরাসা। শীর্ষ মাদরাসাগুলোর বার্ষিক মাহফিলও অনুষ্ঠিত হয়। মাইজভাণ্ডার দরবার নাজিরহাট, নানুপুর, হারুয়ালছড়ি, ভূজপুরসহ বিভিন্ন মাজারে ওরশ উপলক্ষে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ওরশে ভক্ত-অনুরাগীদের আগমনে জমে ওঠে মেলা। হরেক রকম মিষ্টির দোকান, খেলনার স্টল ও নানা পসরা নিয়ে ছোট-বড় সবার পদভারে মুখর থাকে এসব মেলা মাঠ।
আজগর/এমএইচএফ