ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীর বলেছেন, যুগে যুগে যখন দুনিয়ায় অন্যায়, অত্যাচার, পাপাচার বেড়ে যায় তখনই একজন মহামানবের আবির্ভাব হয়। তেমনি আজ থেকে ৫০০০ বছর আগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল। তিনি জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সমস্ত অনাচার দূর করেছিলেন, পাপিষ্ঠরা তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কিন্ত তাতে তারা সফল হয়নি।
তার বাণী ছিল কোন ভেদাভেদ নয় আমরা সবাই মানুষ। মানবতাই ধর্ম। মানবতা সবার উপরে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, ফটিকছড়ি শাখার আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পূজামণ্ডপে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিপূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন সরওয়ার আলমগীর।
তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণের বাণী মেনে চললে সমাজে হানাহানি, বিভেদ, যুদ্ধ বিগ্রহ এসব কিছুই থাকবে না। চারিদিকে শান্তি বিরাজ করবে। তিনি ভালবাসার কথা বলেছেন, বিভেদ অশান্তির বিরুদ্ধে বলেছেন। তার বানী মানি না বলে সমাজে, দেশে, পৃথিবীতে এই হানাহানি, যুদ্ধ, মারামারি। আসুন আমরা শ্রীকৃষ্ণের প্রতিটি বাণী অনুসরণ করি, সমাজে দেশে বিশ্বে শান্তি স্থাপন করি, মানবতার বীজ বপন করি। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে যাই। মানবতার জয় গান গাই।
সরওয়ার আলমগীর আরও বলেন, একসময় একটি গোষ্ঠী স্বার্থ হাসিলের জন্য হিন্দুদের ব্যবহার করেছে। তারা সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিতে চাইলেও ফটিকছড়িতে আমরা সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাই।
র্যালির উদ্বোধক ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ধর্মীয় উৎসব শুধু আনন্দ নয় বরং সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম।
রঙ-বেরঙের পোশাক, ঢাক-ঢোল আর ভক্তিগীতিতে মুখরিত এই শোভাযাত্রায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ ফটিকছড়ি শাখার সভাপতি পণ্ডিত লিখন চক্রবর্তী (লিংকন) এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রবিন পাল।
ধর্মের জয়, অন্যায়ের পরাজয়, শ্রীকৃষ্ণের এই কালজয়ী বাণী ছড়িয়ে দিতেই জন্মাষ্টমীর এই আয়োজন ফটিকছড়িকে রাঙিয়ে তোলে ভক্তি আর আনন্দের রঙে।
ইই