টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার হরিশপুর, মুছাপুর, সারিকাইত, মগধরা ও দীঘাপাড় ইউনিয়নের বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। সড়ক ও গ্রামীণ সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে পানিবন্দী পরিবারের ঘরে ঘরে চাল, ডাল, তেল, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

নৌকা ও অন্যান্য উপায়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে অসহায় মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন ইউএনও নিজে, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
দীর্ঘাপাড় ইউনিয়নের বাসিন্দা আছমা বেগম বলেন, “তিন দিন ধরে ঘরে পানি। রান্না করতে পারছি না। আজ ইউএনও স্যার নিজে এসে খাবার দিয়ে গেছেন। না হলে সন্তানদেরকে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হতো।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্যোগের এই সময়ে প্রশাসনের দ্রুত ত্রাণ কার্যক্রমে পানিবন্দী পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, “সন্দ্বীপের পানিবন্দী প্রতিটি পরিবারের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বরাদ্দকৃত ত্রাণের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্দ চাওয়া হবে। আমাদের টিম সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। কেউ যেন খাদ্যসংকটে না পড়ে, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানি না কমা পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি যেকোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আরএইচ