দক্ষিণ পূর্ব

সবজির পাশাপাশি বেড়েছে ডিম ও পেঁয়াজের দাম

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬
পঠিত :
সবজির পাশাপাশি বেড়েছে ডিম ও পেঁয়াজের দাম

ছবি : দক্ষিণপূর্ব

চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। মাত্র এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিছুদিন আগেও ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া সবজি এখন কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

 

শুক্রবার (১৫ মে) নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাজীর দেউড়ি ও দুই নম্বর গেইট কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজিই শতকের ঘরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১১০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

 

এ ছাড়া ফুলকপি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মুলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, বাঁধাকপি ৮০ টাকা, কচুর মুখি ৮০ টাকা, ধুন্দল ও ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ধনেপাতার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

 

সবজির পাশাপাশি বেড়েছে পেঁয়াজ ও আদার দামও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে আদা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে, যা আগের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি।

 

বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা স্কুলশিক্ষক  নুরুল ইসলাম বলেন, “কয়েকদিন আগেও যে বেগুন ৬০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটি ১০০ টাকা। প্রায় সব সবজির দামই শতকের ওপরে। বাজার মনিটরিং না থাকায় সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।”

 

তবে বিক্রেতাদের দাবি, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে এবং খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে।

 

অন্যদিকে ডিমের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। কয়েক মাস আগে খামারিরা প্রতি ডিম বিক্রি করতেন সাড়ে ৭ থেকে ৮ টাকায়। বর্তমানে সেই ডিম খামার পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা ৭০ পয়সায়। বাজারে ডজনপ্রতি ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

হাঁসের ডিমের ডজন ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

 

মুরগির বাজারেও বেড়েছে দাম। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়।

 

তবে মাছের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। তেলাপিয়া মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা, রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা এবং কৈ মাছ ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

 

এদিকে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায়। বাজারের লাগামহীন দামে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

 

আরএইচ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।