দক্ষিণ পূর্ব

সাতকানিয়ায় ভেলায় ভাসিয়ে দূরের কবরস্থানে লাশ দাফন

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
সাতকানিয়ায় ভেলায় ভাসিয়ে দূরের কবরস্থানে লাশ দাফন

ভেলায় ভাসিয়ে নেওয়া হচ্ছে মরদেহ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যার কারণে নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা সম্ভব হয়নি এক ব্যক্তিকে। চারদিকে বন্যার পানি থাকায় তাঁর মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে নেওয়ার পর অটোরিকশায় করে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনাটি উপজেলার জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের।

 

মারা যাওয়া মোহাম্মদ ফোরকান (৬০) পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। শুক্রবার বিকেলে অসুস্থ হয়ে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। তবে ঘর, উঠান ও পারিবারিক কবরস্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাড়িতে গোসল করানো কিংবা পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সুযোগ ছিল না। পরে দস্তিদারহাট এলাকায় মরদেহের গোসল সম্পন্ন করে ফকির মুড়া ঈদগাহসংলগ্ন পাহাড়ের খাসজমিতে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।

 

ফোরকানের ছেলে রাসেল উদ্দিন জানান, তাঁদের পারিবারিক কবরস্থান কোমরসমান পানিতে ডুবে থাকায় বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশে দাফনের পরিবর্তে বাধ্য হয়ে দূরের কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করতে হয়েছে।

 

জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে থাকায় স্বাভাবিকভাবে মরদেহ বহন করা সম্ভব হয়নি। তাই ভেলায় করে শুকনা জায়গায় নিয়ে গিয়ে পরে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

 

এদিকে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত থাকলেও বিষয়টি জানানো হয়নি। আগে অবহিত করা হলে মরদেহ দাফনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেত।

 

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সাতকানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন এখনো বন্যাকবলিত এবং প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সাঙ্গু নদীর সাতকানিয়া অংশে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা কম।

 

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।