সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ তুলে এক হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন এক মুসলিম নারী। অভিযোগ ওঠেছে, নিজের হিন্দু পরিচয় গোপন করে তানিয়া পারভীন (২৮) নামে এক মুসলিম নারীকে বিয়ে করেন পলাশ দাশ (৪০)। বেশকিছু দিন সংসার করলে এখন তাদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হলে থানায় মামলা হয়। এর আগে এই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবক পলাতক রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে বাদী হয়ে ভুক্তভোগী নারী মামলাটি দায়ের করেন বলে নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া থানার ওসি।
অভিযুক্ত পলাশ দাশ উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দী পাড়ার বাসিন্দা সুনীল দাশের ছেলে। উপজেলার কেরানিহাট কাঁচা বাজারের এক মুদি দোকানি।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মুসলিম নারী তানিয়া পারভীন ওই মুদি দোকান থেকে মালামাল ক্রয়ের সুবাদে দোকানদার পলাশের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে পলাশ নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিয়ে ওই নারীর সাথে সখ্যতা করে তোলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে তারা এক হুজুরের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের রীতি অনুসারে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর ভুক্তভোগী নারী জানতে পারেন অভিযুক্ত পলাশ একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিষয়টি জানার পর ওই নারী প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত পলাশ তাকে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
আরও জানা যায়, অভিযুক্ত পলাশ এ আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সাথে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভাড়া বাসায় সংসার করেন। একপর্যায়ে পলাশ তার পারিবারিক বিষয় নিয়ে ওই নারীর সাথে ঝামেলা শুরু করেন। ভুক্তভোগী নারী এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিতেন পলাশ। সাত মাস আগে ওই নারীকে পলাশ ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেন। পরে তিনি নিরুপায় হয়ে পৈতৃক বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে যাওয়ার পর তার পরিবারও তাকে অবহেলা করে। ওই নারী তার অনাগত সন্তানের কথার চিন্তা করে তাকে ভাড়া বাসায় রাখার জন্য অভিযুক্ত পলাশকে অনুরোধ করেন। তখন পলাশ ওই নারীকে গালিগালাজ করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন। বর্তমানে ওই নারী বিভিন্ন নিকটাত্মীয়ের বাসায় অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন।
সর্বশেষ (১০ মে) ওই নারী অভিযুক্ত পলাশের মুদি দোকানে গিয়ে তাকে একটি ভাড়া বাসা ঠিক করে দেওয়ার জন্য বললে সে পুনরায় তাকে গালিগালাজ, মারধর ও তার অনাগত সন্তানটি নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। সন্তানটির জন্ম নিলে ওই নারীকে এবং সন্তানকে একসাথে হত্যা করার হুমকি দেন পলাশ দাশ।
ভুক্তভোগী মুসলিম নারী তানিয়া পারভীন বলেন, বর্তমানে আমি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এখন সে আমাকে অস্বীকার করছে। পলাশের স্ত্রী আমার অনাগত সন্তানটি নষ্ট করলে আমাকে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে তারা কয়েকজন মিলে আমার অনাগত সন্তানটি নষ্ট করার জন্য কৌশলে আমাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বলে।
অভিযুক্ত পলাশ দাশকে কল করা হলেও তার স্ত্রী ফোন ধরে বলেন, পলাশ তার মুঠোফোন বাড়িতে রেখে চিকিৎসার জন্য গেছেন।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নারীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করি। তদন্তে অভিযুক্ত আসামির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এম