চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)-এর কথিত ইফতার মাহফিলের আড়ালে রাজনৈতিক সমাবেশের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে) নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ এবং চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান বলেন, আগামী ১৪ মার্চ বিকেলে নগরীর কাজীর দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ইফতার মাহফিলের নামে মূলত একটি রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এটি নিষিদ্ধ সংগঠন ও তাদের অনুসারীদের পুনরায় সংগঠিত করার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ বলে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ মনে করেন।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, এই চক্রটি ইতিপূর্বেও কর্ণফুলী টাওয়ারের সামনে সমাবেশ করে পুলিশের বিরুদ্ধে বিষোদগার এবং 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সিইউজে নামের এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। সংগঠনটির কথিত সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরীসহ অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং পলাতক ফ্যাসিস্ট নেতৃত্বের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই কর্মসূচির পেছনে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে। এই চক্রটি সরকার বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও বর্তমানে কারাগারে আটক শ্যামল দত্তসহ অন্যদের সাথে যুক্ত হয়ে সবসময় জনস্বার্থ বিরোধী অবস্থান নেয়। রিয়াজ হায়দারসহ কতিপয় সাংবাদিক বিগত জাতীয় নির্বাচন বানচাল ও শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণার বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। সাংবাদিকতার আড়ালে তারা মূলত পলাতক নেতাদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টায় লিপ্ত।
অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বিগত কমিটিকে সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক ও অনৈতিক। তারা বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী ও নিয়মতান্ত্রিক সাংবাদিক সংগঠনের মর্যাদা ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট ঘরানার ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব পরিদর্শনের পর এমন পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলছে।
জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এই কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্টদের তদন্তের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা জুলাই বিপ্লবে ছাত্রদের রক্ত নিয়ে হোলিখেলা করেছে, তাদের কোনো অপতৎপরতা চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট আয়োজকদেরই নিতে হবে।
ইই