চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ‘জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতিতে ছাত্র মুছে গুপ্ত লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। এসময় কয়েকজনকে ধারালো কিরিচ, রামদা হাতে দেখা গেছে। তাদেরকে শিবিরের মিছিলের দিকে দৌঁড়ে যেতে দেখা যায়। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছাত্রশিবির কর্মীর পায়ের গোড়ালি কেটে নেওয়ার অভিযোগ শিবিরের।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সিটি কলেজে একটি দেয়ালে ক্যালিগ্রাফি করে লেখা হয় ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সেই লেখায় ছাত্রদলের কিছু কর্মী ছাত্র শব্দটি মুছে, এর ওপরে গুপ্ত লিখে দেয়। এটির ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শেয়ার করা হয়। এরপর থেকে শুরু হয় দুইপক্ষের উত্তেজনা। এনিয়ে মঙ্গলবার সকালে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ হয়। পরে বিকাল ৪টার দিকে আবারও দুইপক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসের সংঘর্ষ পরে নিউ মার্কেটে এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় দুইপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, এক যুবকের গোড়ালির অংশ অর্ধেক কেটে ঝুলছে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে গিয়ে বসে পড়েন রাস্তায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই যুবক ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে জানা গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র হাতে ছিল। এরকম বেশকিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ছবিগুলোতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরিহিত একজনের মাথায় হেলমেট, ব্লু জিন্স প্যান্ট ও শার্ট পড়া একজনের হাতে ধারালো রামদা ও গেঞ্জি ও জিন্স প্যান্ট পড়া আরেকজনের কোমড়ে বেল্ট। অন্য ছবিতে দেখা যায়, সাদা জার্সি ও মাথায় টুপি পড়া যুবক রাম দা হাতে, আরেকজন লুঙ্গি, গেঞ্জি পড়ে লাঠি হাতে ও অন্যজন কালো শার্ট ও প্যান্ট পড়ে প্লাস্টিকের পাইপ হাতে দৌঁড়াচ্ছেন। এছাড়া তাদের পেছনে থাকা অনেকের হাতেই ছিল লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ।

স্থানীয় সূত্র বলছে, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরপরই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেট ও করিডরে দ্রুত ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি দেখা যায়। তাদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন বলেন, সকালে গ্রাফিতির ওপর লেখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর ১২টার পর কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস এবং পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সকালের সংঘর্ষের পর বিকেল ৪টার দিকে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় দুটি পক্ষ। এ সময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে দুই পক্ষ একে অন্যকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তাদের অনেকটা নির্বিকার অবস্থায় দেখা যায়। সংঘর্ষে হতাহতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সিটি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মিশকাত জানান, ক্যাম্পাসের ভিতরে এক দফা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা হয়। পরে পুলিশ আসলেও পুলিশ আমাদের কোন প্রকার সহযোগিতা না করে গেইটের বাইরে বের করে দিলেই দ্বিতীয় দফায় আমাদের ওপর হামলা হয় এতে প্রায় ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়। বিকেলে আমরা যখন বিক্ষোভ মিছিল শুরু করি তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে এবং আমাদের একজন কর্মীর পায়ের গোড়ালি কেটে দেয় তারা।
সিটি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল ছিদ্দিকী রনির সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কল ধরেন নি।
ছাত্রশিবির মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করে বলেন, এটি পরিকল্পিত আক্রমণ। সংঘর্ষের সময় তিনি গুরুতর আহত হন।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এমএইচএফ