চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারি মো. নুরুল ইসলাম ওরফে ইরানের (৫০) নির্যাতনের শিকার হয়ে নাইম (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কয়েক মাস আগে ইয়াবা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড শিবপুর গ্রামের আবুল মনছুরের ছেলে শামীমকে (৩০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগও রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত নাইম সীতাকুণ্ড উপজেলার ৪ নম্বর মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভাটেরখীল এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ওরফে ইরান একই এলাকার মৃত নুরু মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নুরুল ইসলাম ওরফে ইরান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন এবং তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের জানান, সম্প্রতি ইরানের কিছু ইয়াবা তার এক খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে হারিয়ে যায়। ওই বিক্রেতা নাইমের বিরুদ্ধে ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ করলে গত ২০ জুলাই রাত ১০টার দিকে বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা শুরুর আগে নাইমকে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে সিএনজি স্টপেজ মোড়ে প্রকাশ্যে মারধরের পর তাকে ইরানের বাড়ির সামনে একটি গোডাউনে নিয়ে দীর্ঘ সময় নির্যাতন চালানো হয়।
এদিন রাত প্রায় ২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় নাইমকে তার বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে আরও জানাযায়, ইরানের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। ভুক্তভোগিদের দাবি, সীতাকুণ্ড মডেল থানার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের সহযোগিতায় তিনি মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এবং পুলিশি অভিযানের আগাম তথ্য পেয়ে আত্মগোপন করেন।
এ বিষয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেও ইরান একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, "আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আমি বারবার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।"
নিহত নাইমের বাবা মো. খোকন তার ছেলের হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, "আমার ছেলেকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, "ঘটনার বিষয়ে জেনেছি। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এসআই/দক্ষিণপূর্ব