নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জামায়াতের প্রতিবাদ সভায় হামলা সশস্ত্র হামলা করেছে বিএনপির একদল নেতাকর্মী। এতে দুই জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধসহ ১২ জন আহত হয়।
আজ শুক্রবার বিকেলে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়,জঙ্গল সলিমপুর এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ও জামায়াত নেতা শহিদুল ইসলামের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে শুক্রবার বিকালে প্রতিবাদ সভা ডাকে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী। এ কর্মসূচীর পালনের লক্ষ্যে উত্তর জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরী, উপজেলা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কুতুব উদ্দিন শিবলীসহ জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে পৌঁছে। তবে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা জড়ো হতেই ২০-৩০ জনের অস্ত্রধারী সমাবেশে অতর্কিত গুলি ছুঁড়ে হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আলী ও আব্দুস সালাম।এছাড়াও উপজেলা জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কুতুব উদ্দিন শিবলীসহ ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ ও আহতদের চমেক হাসপাতাল ও আশেপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এসময় উত্তর জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার ছিদ্দীক চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতা আটকে পড়েন। তারা পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে জামায়াত নেতারা অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনকে ফোন করে সহযোগিতা চান।
সীতাকুণ্ড উপজেলা জামাতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কুতুবউদ্দিন শিবলী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এস এস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে গত বুধবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসীরা উপুর্যপরি হামলা করে। তিনি বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে তাকে রাখা হয়েছে। ওই এলাকায় জামায়াতের জনপ্রিয়তার পেছনে এই নেতা ভূমিকা রাখেন বলে তাকে টার্গেট করে হামলা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে আজ শুক্রবার বাদে জুমা এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিবাদ সভায় উপজেলা ও স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ সমবেত হলে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে সভা পন্ড করে দেয়। সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে দুই জামাত নেতাসহ ১০ জনের অধিক জামায়াত নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও আরও কয়েকজনকে আশেপাশের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ সোহেল রানা বলেন, বিএনপি ও জামায়াত আলাদাভাবে প্রোগ্রাম করছিল। এসময় বিএনপি সমর্থিত কিছু লোক এসে সভায় অতর্কিত হামলা করে। এতে জামায়াতের কযেকজন নেতাকে অবরুদ্ধ করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আহতদের বিএনপি ও জামায়াত কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।