দক্ষিণ পূর্ব

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ৯ মে ২০২৬
পঠিত :
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে দু্ইজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ গুলির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন চন্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন।

 

নিহতরা হলেন, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগরের বাতেনবাড়ি গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মো. মুরসালিন (২০) এবং মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪০)।

 

মুরসালিন গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের দুজনের লাশ আগরতলার জিবি হাসপাতালে রয়েছে বলে দাবি পারিবারের।

 

এ ঘটনায় বিজিবির পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আনুমানিক ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারী ভারতীয় চোরাকারবারীর সহায়তায় ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ভারত থেকে চোরাচালানী মালামাল নিয়ে ফেরার সময় প্রতিপক্ষ ৪৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়। বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা বিএসএফ সদস্যর উপর চড়াও হলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্য চোরাকারবারীদের লক্ষ্য করে ২টি ছররা গুলি করে। এতে মো. মুরসালিন এবং অপর একজন আহত হয়। পরে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মৃত্যুবরণ করেছেন বলে বিএসএফ নিশ্চিত করেছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৬০ বিজিবির (সুলতানপুর ব্যাটালিয়ান) অধিনায়ক বিএসএফ কমান্ডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের লাশ বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যাপারে কাজ করছেন। বিএসএফকে প্রতিবাদ লিপি পাঠানো এবং পতাকা বৈঠকের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন ।

 

এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ২ জন আগে থেকে চোরাচালানী মালামাল পরিবহনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে বিজিবি।

 

ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান বলেন, “আমি যতটকু জানি রাতে ২০-২৫ জনের একটি দল কাঁটাতারের সামনে গেলে তাদের বিএসএফ গুলি করলে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়।”

 

মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সবুর বলেন, “সীমান্তে গুলিতে দুজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি। এর মধ্যে নবীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে।”

 

নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন বলেন, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে লাশ নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

 

চন্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন বলেন, “বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”

 

কসবা থানার ওসি নাজনীন সুলতানা সকাল ১০টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিএসএফ লাশ নিয়ে গেছে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় কতজন আহত এখনও পর্যন্ত সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।”

 

আরএইচ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।