দক্ষিণ পূর্ব

স্টাফদের পিটিয়ে বদলি হওয়া সেই দাপুটে আওয়ামী সর্দার ফিরেছেন চমেক হাসপাতালে

sathi
sathi
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৫
পঠিত :
স্টাফদের পিটিয়ে বদলি হওয়া সেই দাপুটে  আওয়ামী সর্দার ফিরেছেন চমেক হাসপাতালে
নিজস্ব প্রতিবেদক 

আওয়ামী লীগ নেতার প্রভাব খাটিয়ে কথায় কথায় কর্মচারীদের পেটাতেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  ওয়ার্ড সর্দার পদে থাকা মো. ইলিয়াস। হাসপাতালে  বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োজিত দালালদের আশ্রয় দেওয়ায় ছিলো যেন  তার মূল  কাজ। মেডিকেলের খাবার সরবরাহে ছড়ি ঘুরানো থেকে শুরু করে দোকানপাট থেকে নিয়মিত বখরা আদায় করে সমালোচিত তিনি। তার কথা মতো কাজ করে না দিলে কর্মচারীদের উপর চলতো অত্যাচার। 

এমন নানা শৃঙ্খলা পরিপন্থী অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে তাকে চট্টগ্রাম থেকে বদলি করা হয় সিলেটে। কিন্তু তার ক্ষমতা এতোই বেশি ৬ মাস না যেতেই পুনরায় তাকে চট্টগ্রামে বদলির আদেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর শৃঙ্খলা পরিপন্থী অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে তাকে বদলির সুপারিশ করে মেডিকেলের পরিচালক। এ সুপারিশ অনুযায়ী তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু কয়েকমাস যেতে না যেতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবারও বদলি হয়ে আসছেন এই কর্মচারী৷গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করে অফিস আদেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম. নাছির উদ্দিনের প্রধান সহযোগী ডা. ফয়সাল ইকবালের  একচ্ছত্র প্রভাব খাটিয়ে চলতেন গাজী মো. ইলিয়াস। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও  হাসপাতালে প্রভাব বিস্তার করে চলতেন তিনি।কথায় কথায় কর্মচারীদের মারধর করা ছিল তার স্বভাব। এসব ঘটনায় তদন্ত হয়েছে অনেকবার। শাস্তিমূলক বদলির সুপারিশও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্দার পদে চাকরি থাকলেও কখনোই এই দায়িত্ব পালন করেননি গাজী মো. ইলিয়াস। বিভিন্ন ওয়ার্ডে তদবির করা ছিল তার দায়িত্ব। তার কথা মতো না চললে কর্মচারীদের উপর নেমে আসতো অত্যাচার।

এরমধ্যে গত বছরের ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক কর্মচারীর উপর হামলা করে হাত ভেঙে দেন গাজী মো. ইলিয়াস ও তার সহযোগিরা। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে কমিটি বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতিসহ শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততার সত্যতা পায়। 

এই কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি লিখেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত সর্দার শৃঙ্খলা পরিপন্থী বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এই চিঠিতে তাকে চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরে বদলির জন্য তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অনুরোধ করেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোহাম্মদ ইলিয়াসকে ফোন দেয়া হলেও রিসিভ করেন নি। তবে এই   চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার  মো. তসলিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, সে যদি আবারও অপকর্মে লিপ্ত হয়, অনিয়ম করে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে সাথে সাথে কঠোর ব্যবস্থা নিব। বদলিটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির দপ্তর থেকে হয়। এতে আমাদের কোন হাত নেই। আমার কথা হচ্ছে অনিয়ম, দুর্নীতি করলেই ব্যবস্থা নিব।


নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।